উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলার বিধানসভা নির্বাচন মানেই টানটান উত্তেজনা। তবে ২০২৬-এর ভোট যাতে কেবল গায়ের জোর নয়, বরং স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির লড়াই হয়, তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নামল নির্বাচন কমিশন। সোমবার সর্বদল বৈঠকের পর একগুচ্ছ নজিরবিহীন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে কমিশনের প্রস্তুতির প্রধান স্তম্ভগুলি একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
আকাশপথে নজরদারি ও ড্রোন প্রযুক্তি
এবার শুধু বুথের ভেতর নয়, বুথের বাইরেও থাকছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি চালাতে ড্রোনের ব্যবহার করা হবে। পুলিশ পর্যবেক্ষকদের পরামর্শ মেনে আকাশপথ থেকেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
২,২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী
ভোটের ময়দানে এবার রেকর্ড সংখ্যক বাহিনী নামছে। প্রতি দফায় ২,২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। বুথের সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে তাদের কাঁধেই। এমনকি ভোটকর্মী ও জওয়ানদের ছবি (হার্ড ও সফট কপি) সংরক্ষণ করা হবে যাতে কোনো ভুয়ো কর্মীর অনুপ্রবেশ না ঘটে।
ওসির ঘাড়ে দায়, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন সিইও। প্রতিটি থানার ওসিকে বোমা ও বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কোনো এলাকায় অশান্তি বা হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটলে ওসির ওপর দায় বর্তাবে। ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে অভিযান চালিয়ে ১১২ কোটি টাকার সামগ্রী ও নগদ উদ্ধার করেছে কমিশন।
প্রযুক্তির ছোঁয়া
ভোটারদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে এবার বুথেই থাকছে মোবাইল জমা রাখার ব্যবস্থা। টোকেন পদ্ধতিতে ফোন জমা রেখে নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবেন নাগরিকরা। পাশাপাশি, ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য এবং সব পরিষেবা এক জায়গায় পেতে একটি সমন্বিত মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে।
প্রবীণ ও বিশেষ সক্ষমদের সুবিধা
যাদের বয়স ৮৫ বছরের বেশি অথবা যারা অন্তত ৪০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী, তাদের জন্য থাকছে ‘হোম ভোটিং’-এর সুবিধা। এছাড়া গর্ভবতী মহিলা ও প্রবীণদের জন্য তৈরি হচ্ছে ৬৩৪টি আদর্শ ভোটকেন্দ্র। উল্লেখ্য, এবার রাজ্যে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮০ হাজার ৭১৯। ভোট প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবেন এমন মহিলা কর্মীর সংখ্যা ১ লক্ষ ৩ হাজার ৬১। এর পাশাপাশি কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি কোথাও হামলা বা কারচুপির প্রমাণ মেলে, তবে সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণ হতে পারে।
