Voter Checklist Scandal | জন্মের আগেই বার্থ সার্টিফিকেট! ইআরও-দের ‘ক্লিনচিট’, ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে ২০ লক্ষ নাম

Voter Checklist Scandal | জন্মের আগেই বার্থ সার্টিফিকেট! ইআরও-দের ‘ক্লিনচিট’, ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে ২০ লক্ষ নাম

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ভোটার তালিকা সংশোধনের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন এক নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি (Voter Checklist Scandal) সামনে এল। জেলা স্তরের আধিকারিকরা (ERO) নথিপত্রে ভুরি ভুরি ভুল থাকা সত্ত্বেও অসংখ্য ভোটারকে ‘ফাউন্ড ওকে’ (Discovered OK) বলে ছাড়পত্র দিয়েছেন। কমিশনের উচ্চপর্যায়ের স্ক্রুটিনিতে সেই সব অসঙ্গতি ধরা পড়তেই এখন কয়েক লক্ষ ভোটারের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। সূত্রের খবর, এই গাফিলতির জেরে রাজ্যজুড়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে।

পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের একটি উদাহরণের দিকে তাকালে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়। জনৈক রাজেশ আলির বাবার নাম নথিতে রয়েছে ভুবনচন্দ্র বেরা, মায়ের নাম পুষ্পরানি বেরা এবং স্ত্রীর নাম সুমিত্রা রানি বেরা। পদবীর এই চরম অমিল থাকা সত্ত্বেও প্রমাণ হিসেবে কোনো সাপোর্টিং ডকুমেন্ট আপলোড করা হয়নি। অথচ স্থানীয় ইআরও সেটিকে ‘ওকে’ করে দিয়েছেন।

জালিয়াতির নমুনা এখানেই শেষ নয়। হাফিজুর রহমান হালদার নামে এক ব্যক্তির নথিতে দেখা যাচ্ছে, তাঁর জন্ম ৩০ নভেম্বর ১৯৯০ সালে। অথচ তাঁর বার্থ সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ১৯৯০ সালের ২৩ আগস্ট— অর্থাৎ জন্মের ২ মাস আগেই শংসাপত্র তৈরি! এমন আজগুবি তথ্যও ইআরও-দের নজর এড়িয়ে ‘ওকে’ হয়ে গিয়েছে।

ইআরও-রা সবুজ সংকেত দিলেও রোল অবজার্ভাররা লগ-ইন করে দেখছেন তথ্যের অসঙ্গতি পাহাড়প্রমাণ। ফলে তড়িঘড়ি সেই নামগুলিকে ‘টু বি রিভিউড’ (To be reviewed) তালিকায় পাঠানো হচ্ছে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একটি জেলায় এই সংখ্যা ছিল ১,৫০০, যা বুধবার সকালেই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিধানসভা প্রতি গড়ে ১০ হাজার করে এমন ত্রুটিপূর্ণ নাম থাকতে পারে।

এই ঘটনা শুধুমাত্র সংখ্যালঘু এলাকায় হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা মানতে নারাজ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল। তাঁর কথায়, “নির্দিষ্ট ১৩টি নথির বাইরে কেউ নথি দিলে বা তথ্যের লিঙ্ক না থাকলে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে গণ্য হবেই। ইআরও-রা তা খতিয়ে না দেখে ওকে করলে রিভিউ হতেই পারে।”

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই সব আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে, যাঁরা জেনেবুঝে এই ভুলগুলিকে পাশ করিয়েছেন। সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশন এমন ইআরও-দের একটি তালিকা তৈরি করছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা সরাসরি দিল্লি থেকে স্থির করা হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *