উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাড়ির কাছেই গোখাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের হানায় এক মহিলার মর্মান্তিক মৃত্যু হওয়ার অভিযোগ উঠেছে উত্তরাখণ্ডের কালগড় টাইগার রিজার্ভ সংলগ্ন এলাকার একটি গ্রামে। শনিবার পুলিশ এই খবর জানিয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা নাগাদ জেলার রিখানিখাল ব্লকে এই ঘটনাটি ঘটে। মৃত মহিলার নাম উর্মিলা দেবী। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি তাঁর পুত্রবধূ প্রিয়ার সঙ্গে গবাদি পশুর জন্য গোখাদ্য সংগ্রহ করছিলেন। প্রিয়া কোনও এক কারণে বাড়ি ফিরে যান। উর্মিলা দেবী এরপর একাই পাতা সংগ্রহ করতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর উর্মিলা দেবী বাড়ি না ফেরায় তাঁর পুত্রবধূ প্রিয়া তাঁকে খুঁজতে যান।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর, প্রিয়া দেখেন মাঠের কাছে একটি ঝোপের মধ্যে তাঁর শাশুড়ির দেহ পড়ে আছে এবং কাছেই একটি বড় আকারের বন্যপ্রাণী বসে রয়েছে। প্রিয়ার চিৎকারে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে বন্যপ্রাণীটি জঙ্গলে চলে যায়। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বন দপ্তরের একটি দল স্থানীয় বিধায়ক দিলীপ রাওয়াতকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় বিধায়ক দিলীপ রাওয়াত এই ঘটনা নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “জেলাজুড়ে বাঘ, চিতাবাঘ এবং ভাল্লুকের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।” তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, বন্যপ্রাণীর আক্রমণ রুখতে সরকার যদি অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেয়, তবে তিনি তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। বিধায়ক আরও দাবি করেন, এলাকার এবং রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন আইন শিথিল করা উচিত। ঘটনা প্রসঙ্গে কালগড় টাইগার রিজার্ভের DFO তরুণ এস. জানিয়েছেন যে, গ্রামবাসীরা একটি বড় প্রাণী দেখেছেন ঠিকই, তবে সেটি চিতাবাঘ না বাঘ— তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
