উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: টানা ভারী বর্ষণ, মেঘ ভাঙা বৃষ্টি এবং হড়পা বানের কারণে উত্তর ভারতের উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ ও জম্মু ও কাশ্মীর গুরুতর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ এবং চামোলি জেলায় ভয়াবহ মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে একাধিক পরিবার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে। ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী (Pushkar Singh Dhami) ‘এক্স’-এ জানিয়েছেন, মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের কারণে অনেক রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, যার ফলে বহু মানুষ আটকে আছেন। উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান পুরোদমে চলছে। গত সপ্তাহেই মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ফলে চামোলি জেলার থারালি বাজার এবং তহসিল কমপ্লেক্সের মতো এলাকাগুলো ধ্বংসস্তূপে ভরে গিয়েছিল। সেই সময় মহকুমা শাসকের (SDM) সরকারি বাসভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে, হিমাচল প্রদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (SDMA) তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যে দুটি জাতীয় মহাসড়ক সহ ৫২৪টি সড়ক বন্ধ ছিল। প্রায় ১,২৩০টি বিদ্যুৎ সরবরাহ ট্রান্সফরমার অচল হয়ে পড়েছে এবং ৪১৬টি জল সরবরাহ প্রকল্পে বিঘ্ন ঘটেছে। মানিমহেশ যাত্রায় আটকে পড়া প্রায় ৭,০০০-৮,০০০ তীর্থযাত্রীর উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরেও ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জম্মু অঞ্চলের সব স্কুল আগামী ৩০ অগাস্ট পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার থেকে ফের ময়দানে নেমে পড়েছে। জম্মু, হিমাচল প্রদেশ এবং পঞ্জাব প্রশাসনের অনুরোধে ১২টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আটকে পড়া মানুষকে সরিয়ে নেওয়া, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মরসুমে মেঘ ভাঙা বৃষ্টি, হড়পা বান এবং ভূমিধসের মতো ঘটনা এই রাজ্যগুলিতে নিয়মিত হয়ে উঠেছে, যা মানুষের জীবন ও সম্পত্তির উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
