উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ (Nation of Explicit Concern) হিসেবে তালিকাভুক্ত করার মার্কিন সুপারিশকে তীব্র ভাষায় প্রত্যাখ্যান করল নয়াদিল্লি। সোমবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (USCIRF)-এর এই রিপোর্ট সম্পূর্ণ ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘ভ্রান্ত তথ্যনির্ভর’।
আরএসএস ও র’-কে নিশানার প্রস্তাব
২০২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে (যা মূলত ২০২৫ সালের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি) USCIRF দাবি করেছে যে, ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ বাড়ছে। এই অভিযোগে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র’ (R&AW) এবং আরএসএস (RSS)-এর মতো সংগঠনের ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার সুপারিশ করেছে কমিশন। এমনকি ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার শর্তে বাঁধার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
ভারতের কড়া জবাব: ‘আগে নিজেদের আয়না দেখুন’
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই রিপোর্টের তীব্র সমালোচনা করে বলেন:”আমরা ইউএসসিআইআরএফ-এর এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চরিত্রায়নকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। কয়েক বছর ধরে এই কমিশন বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের বদলে প্রশ্নবিদ্ধ উৎস এবং নির্দিষ্ট মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করে ভারতের একটি বিকৃত চিত্র উপস্থাপন করে আসছে।”
জয়সওয়াল আরও যোগ করেন যে, ভারতের সমালোচনা করার বদলে কমিশনের উচিত আমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে হামলা, ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের ওপর ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা এবং হেনস্তার দিকে নজর দেওয়া। ভারতের মতে, এই ধরনের একপেশে রিপোর্ট খোদ মার্কিন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই তলানিতে নিয়ে যাচ্ছে।
রিপোর্টের বিতর্কিত দাবিগুলো কী কী?
ইউএসসিআইআরএফ তাদের রিপোর্টে দাবি করেছে:
• ভারতে ধর্মান্তর বিরোধী আইনের কড়াকড়ি সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব করছে।
• ভারতের বিরুদ্ধে মার্কিন মাটিতে শিখ বা অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নজরদারি চালানোর অভিযোগ তুলে ‘ট্রান্সন্যাশনাল রিপ্রেশন রিপোর্টিং অ্যাক্ট’ পাসের সুপারিশ করা হয়েছে।
• ধর্মীয় উপাসনালয় লক্ষ্য করে নতুন আইন প্রণয়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।
কূটনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক যখন মজবুত হচ্ছে, তখন এই ধরণের রিপোর্ট দুই দেশের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। যদিও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট— দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিদেশি সংস্থার ভিত্তিহীন হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
