উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: এই সপ্তাহান্তেই কি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে দেখা যাবে আগুনের গোলা? পেন্টাগনের (Pentagon) অন্দরমহল থেকে ভেসে আসছে এমনই হাড়হিম করা খবর। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে আমেরিকা নাকি পুরোপুরি তৈরি ইরানে ভয়াবহ হামলা চালানোর জন্য (US-Iran)। অপেক্ষা শুধু একটি সইয়ের। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সবুজ সংকেত’ মিললেই শনিবার বা রবিবার রাতের অন্ধকারের চিরে ইরানের বুকে নেমে আসতে পারে মার্কিন ‘মৃত্যুদূত’।
হামলার ব্লু-প্রিন্ট ফাঁস?
সংবাদসংস্থা সূত্রে দাবি, এবারের হামলা কোনও ছোটখাটো অপারেশন নয়। পেন্টাগন নাকি কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা বোমাবর্ষণের ছক কষেছে। লক্ষ্য—ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোর নামনিশানা মুছে ফেলা এবং দেশটির সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। আমেরিকার এই সম্ভাব্য অপারেশনের পোশাকি নাম হতে পারে ‘কাইনেটিক অ্যাকশন’ (Kinetic Motion)। পেন্টাগনের গোপন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প সম্মতি দিলেই শুরু হবে এই ধ্বংসযজ্ঞ।
সমুদ্রে ভাসছে ‘মৃত্যুর কিল্লা’
ইতিমধ্যেই পারস্য উপসাগরে ত্রাসের সঞ্চার করে মোতায়েন করা হয়েছে আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ এবং ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’। সঙ্গে রয়েছে এফ-৩৫ এবং এফ-২২ র্যাপ্টরের মতো অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান। আকাশে চক্কর কাটছে বি-২ স্পিরিট বোমারু বিমান, যা মাটি ফুঁড়ে বাঙ্কার ধ্বংস করতে সক্ষম। সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে এখন আক্ষরিক অর্থেই বারুদের স্তূপ।
কেন এই যুদ্ধংদেহী মেজাজ?
২০২৫ সালের জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর স্মৃতি এখনও টাটকা। সেবারও ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে আঘাত হেনেছিল আমেরিকা। কিন্তু পেন্টাগন মনে করছে, ইরান ফের গোপনে শক্তি বাড়াচ্ছে। তেহরানের সঙ্গে আলোচনার রাস্তা কার্যত বন্ধ। তাই এবার আর কথা নয়, সোজা মিসাইল হামলার পথেই হাঁটতে চাইছেন ট্রাম্পের সেনাপতিরা।
এখন গোটা বিশ্বের নজর ওয়াশিংটনের দিকে। ট্রাম্প কি শেষমেশ বোতাম টিপবেন? নাকি শেষ মুহূর্তের ফোনে মিলবে রফাসূত্র? তবে যা পরিস্থিতি, তাতে মনে হচ্ছে—বারুদ ঠাসা ড্রামে দেশলাই কাঠি পড়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা!
