উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ চরম সীমায় পৌঁছেছে। এবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে (US Embassy Riyadh) ভয়াবহ ড্রোন হামলা (Drone assault) চালাল ইরান (Iran)। মঙ্গলবার ভোরে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, দু’টি ইরানি ড্রোন সরাসরি দূতাবাস চত্বরে আঘাত হানে। এর ফলে সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ড ও পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ঘটনার সময় ভবনটি খালি থাকায় কোনও প্রাণহানির খবর মেলেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই হামলার পরই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানকে।
গত শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর থেকেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। সোমবার রাতে রিয়াধের দূতাবাসে এই হামলা সেই সংঘাতেরই অংশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে (যার সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ) দেখা গিয়েছে, দূতাবাসের ভবন থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে এবং দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
এই হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমেরিকা এর পালটা জবাব কী দেবে, তা আপনারা শীঘ্রই জানতে পারবেন।’ তিনি দূতাবাসে এই হামলার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর খোলা থাকলেও হামলার জেরে প্রতিবেশী দেশগুলোর আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বিমান চলাচল কার্যত বিপর্যস্ত। ইরাক, কুয়েত, বাহারিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কাতার সব দেশের আকাশপথ এখন প্রায় বিমানশূন্য। কয়েকশো ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। রিয়াধ, জেড্ডা ও দাহরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য ‘শেল্টার ইন প্লেস’ বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
সৌদি আরব এবং আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখছেন কীভাবে আকাশপথের সুরক্ষা বলয় ভেদ করে এই ড্রোন রিয়াধের কেন্দ্রে পৌঁছাল। এই হামলার পর বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার এবং ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড়সড়ো আশঙ্কার মেঘ দেখা দিয়েছে।
