উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় স্বস্তির খবর। দীর্ঘ ন’মাসের আলোচনার পর অবশেষে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করল ঢাকা (US-Bangladesh Commerce)। ফলে বাংলাদেশি পণ্যের উপর শুল্ক কমে এসেছে ১৯ শতাংশে (Reciprocal tariff reduce)। সোমবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস একথা জানান। নতুন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায়, আমেরিকার কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি নির্দিষ্ট কিছু পোশাক এখন থেকে দেশটিতে শুল্কমুক্ত (জিরো ট্যারিফ) প্রবেশের সুযোগ পাবে (Clothes)।
গত বছরের এপ্রিলে আমেরিকা বাংলাদেশের উপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। তবে সরকারের টানা কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গত অগাস্ট মাসে তা ২০ শতাংশে নামানো হয়। সোমবারের চূড়ান্ত চুক্তিতে তা আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। ইউনূস এই চুক্তিকে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান রক্ষা ও বিশ্বজুড়ে বস্ত্র সরবরাহ শৃঙ্খলে দেশের অবস্থান মজবুত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ঢাকার পক্ষ থেকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং আমেরিকার পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। জেমিসন গ্রিয়ার বাংলাদেশি নেগোশিয়েশন টিমের প্রশংসা করে জানান, এই পদক্ষেপ মার্কিন বাণিজ্য নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুই দেশই বাংলাদেশে বিদ্যমান অশুল্ক বাধাগুলো দূর করতে সম্মত হয়েছে।
বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে, যা দেশের জিডিপিতে প্রায় ১০ শতাংশ অবদান রাখে। এই খাতের প্রায় ৪০ লক্ষ শ্রমিকের বড় অংশই নারী। সম্প্রতি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকটে ধুঁকতে থাকা কারখানাগুলোর জন্য এই ১৯ শতাংশ ট্যারিফ রেট বিশ্ববাজারে টিকে থাকার লড়াইয়ে অক্সিজেন জোগাবে।
এমন এক সময়ে এই সুখবর এল যখন আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার মাঝে এই বাণিজ্য চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
