উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্ব বাণিজ্যে আবারও বড়সড়ো ঝড়ের পূর্বাভাস (International Commerce Warfare)। ভারত, চিন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ বিশ্বের ১৬টি প্রধান অংশীদার দেশের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ‘সেকশন ৩০১’ (Part 301) ধারায় তদন্ত শুরু করল ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসন (US)। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, এই দেশগুলির শিল্প নীতি এবং অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা মার্কিন উৎপাদনকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করছে। এর ফলে শীঘ্রই ওই দেশগুলো থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর চড়া হারে শুল্ক চাপাতে পারে ওয়াশিংটন।
বুধবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, মূলত দুটি বিষয়ে এই তদন্ত চলবে। প্রথমত, ভারত ও চিনের মতো দেশগুলোর অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন ক্ষমতা খতিয়ে দেখা হবে (Extra Manufacturing Capability)। আমেরিকার দাবি, অনেক দেশ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পণ্য উৎপাদন করে বিশ্ব বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে মার্কিন সংস্থাগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। এই তালিকায় রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, ভিয়েতনাম এবং বাংলাদেশও।
সম্প্রতি আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী শুল্ক নীতিকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে খারিজ করে দিয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, আর্থিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে যথেচ্ছ শুল্ক চাপানো যায় না। সেই বাধা টপকাতেই এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে হোয়াইট হাউস। এই আইন অনুযায়ী, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) অনুমতি ছাড়াই আমেরিকা একতরফাভাবে যেকোনও দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
ভারতের জন্য এই তদন্ত এক নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে অটোমোবাইল এবং উন্নত প্রযুক্তির উৎপাদন ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা এখন ওয়াশিংটনের আতশকাচের নীচে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, যে সব দেশের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অনেক বেশি এবং যেখানে সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে এই বিষয়ে জনসাধারণের মতামত জানানোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মে মাসে হবে জনশুনানি। জুলাই মাসে বর্তমান অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। সব মিলিয়ে, ভারত সহ বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে।
