অরিন্দম বাগ, মালদা: ডিজিটাল পেমেন্টে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে তরুণসমাজ। ছোট মুদিখানার দোকান হোক কিংবা ঠ্যালায় ফল বিক্রি, সবক্ষেত্রেই মালদা শহরে কিউআর কোড স্ক্যান করে ইউপিআই পেমেন্টের সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নানান প্রতারণাচক্রও গজিয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে নকল ইউপিআই পেমেন্ট স্ক্যাম নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ময়দানে নামল মালদা জেলা পুলিশ।
সম্প্রতি ইংরেজবাজারের কোতুয়ালিতে ইউপিআই পেমেন্টের নামে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, সামগ্রী নেওয়ার পর কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করে তা দেখানোর পরেও অ্যাকাউন্টে টাকা আসেনি। ঘটনার তদন্তে নেমে সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ জানতে পারে, কিছু অসাধু ব্যক্তি আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনও টাকা কাউকে পাঠানোর স্ক্রিনশট নিজেদের কাছে মজুত করে রাখছে। দোকানে গিয়ে সেই অঙ্কের জিনিস কেনার পর কিউআর কোড স্ক্যান করার অভিনয় করে আগে থেকে মজুত থাকা স্ক্রিনশট দেখিয়ে চম্পট দিচ্ছে।
ইতিমধ্যে এই বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে উদ্যোগ নিয়েছে মালদা জেলার পুলিশ। জেলা পুলিশের তরফে সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে সাইবার ক্রাইম থানার আইসি বাপন দাস বলেছেন, ‘নকল ইউপিআই পেমেন্ট স্ক্যাম থেকে সকলে সতর্ক থাকুন। প্রতারকরা নকল ইউপিআই পেমেন্টের স্ক্রিনশট দেখিয়ে বিভিন্ন দোকানদার, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ঠকাচ্ছে। প্রতারকদের দেখানো স্ক্রিনে পেমেন্ট সাকসেসফুল দেখালেও অ্যাকাউন্টে টাকা আসছে না। এনিয়ে সকলের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারও দেখানো স্ক্রিনশটকে বিশ্বাস করবেন না। অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছে কি না তা নিজে যাচাই করুন। প্রয়োজনে নিজের ইউপিআই আইডি মিলিয়ে দেখুন। সেক্ষেত্রে কোনও বানান ভুল রয়েছে কি না দেখে নেবেন। সন্দেহজনক কোনও লেনদেন মনে হলে এনসিআরপি পোর্টাল বা সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করুন।’
এবিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার প্রদীপকুমার যাদব জানান, ‘সাইবার ক্রাইম নিয়ে আমাদের সচেতনতামূলক প্রচার সারাবছর ধরে চলতে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউপিআই পেমেন্টের স্ক্রিনশট দেখিয়ে বেশ কিছু প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসছিল। এই বিষয়টি নিয়েও আমরা সাধারণ মানুষকে সচেতন করছি।’
