গঙ্গারামপুর: লাইসেন্সহীন ও নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ গুড় মজুত রাখার অভিযোগে বুধবার বড়সড় অভিযান চালাল আবগারি দপ্তর। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বোড়ডাঙ্গী এলাকায় জনৈক রনি সরকার নামে এক ব্যবসায়ীর গোডাউন থেকে প্রায় ২৮ হাজার মেট্রিক টন গুড় (Unlawful Molasses) বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
আবগারি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত বা মোলাসিসসমৃদ্ধ (Molasses-rich) গুড় লাইসেন্স ছাড়া ৫ হাজার মেট্রিক টনের বেশি মজুত রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মূলত এই ধরণের গুড় অবৈধ চোলাই মদ বা বিভিন্ন নেশাজাতীয় পানীয় তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বোড়ডাঙ্গী এলাকার ওই ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে কোনও বৈধ নথিপত্র ছাড়াই এই বিপুল পরিমাণ গুড় গোডাউনে জমিয়ে রাখছিলেন বলে খবর পায় প্রশাসন।
অভিযানটি হুট করে চালানো হয়নি। দপ্তর সূত্রে খবর, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকদিন আগে প্রথম দফায় ওই গোডাউনে হানা দিয়ে গুড়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানোর পর প্রাথমিক রিপোর্টে অতিরিক্ত চিনি ও মোলাসিসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। এরপরই বুধবার দুপুরে দপ্তরের আধিকারিকরা পুনরায় অভিযানে নামেন এবং পুরো মজুত বাজেয়াপ্ত করেন।
বাজারে সাধারণ গুড়ের তুলনায় এই ধরণের গুড়ের চাহিদা বেশি এবং এতে মুনাফাও প্রচুর। আবগারি দপ্তরের কর্তারা জানিয়েছেন, “অতিরিক্ত চিনিযুক্ত এই গুড় চোলাই মদের কারবারে ব্যবহারের প্রবল সম্ভাবনা থাকে। লাইসেন্সহীন এই মজুত সম্পূর্ণ বেআইনি।” সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী রনি সরকারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর গঙ্গারামপুর ও সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে রীতিমতো আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আবগারি দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ মদের কারবার রুখতে এই ধরণের নজরদারি ও অভিযান আগামীতেও জারি থাকবে।
