উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: খাদের কিনারায় বিশ্ব অর্থনীতি। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংঘাত এবার আছড়ে পড়ল পারস্য উপসাগরের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে। শনিবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাশাহীর (UAE) গুরুত্বপূর্ণ তেলভাণ্ডার থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ আইল্যান্ড’-এ হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই ঘটনা অঞ্চলের উত্তেজনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফুজাইরাহ বন্দরে ড্রোন হানা ও অগ্নিকাণ্ড
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ) দেখা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাশাহীর উপকূলীয় শহর ফুজাইরাহ’র আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। এই বন্দরটি বিশ্ব তেল বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, একটি বিদেশি ড্রোন ইন্টারসেপ্ট করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন মোকাবিলা করছে। তবে ঠিক কোন জায়গায় ড্রোনটি পড়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
ইরানের ‘লাইফলাইন’ খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলা
শনিবার সকালেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, মার্কিন বাহিনী ইরানের খার্গ দ্বীপে সফলভাবে বোমাবর্ষণ করেছে। উল্লেখ্য, ইরানের প্রায় সমস্ত অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপ থেকেই বিদেশে রপ্তানি করা হয়। ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের পুরো তেল পরিকাঠামোই এখন তাঁদের নিশানায় রয়েছে।
জ্বালানি যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ এখন কার্যত ‘এনার্জি ওয়ার’-এ রূপ নিয়েছে। যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এক নজরে:
• তেহরান বনাম তেল আবিব: ইসরায়েল প্রথম তেহরানের তেল ডিপোগুলোতে আঘাত হানে। জবাবে ইরান কুয়েত থেকে ওমান পর্যন্ত বিস্তৃত উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে।
• নিশানায় বড় স্থাপনা: সৌদি আরবের রাস তনুরা রিফাইনারি, কাতারের রাস লাফান গ্যাস বেস এবং আমিরাশাহীর রুয়াইস রিফাইনারি কমপ্লেক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো এখন যুদ্ধের মূল লক্ষ্যবস্তু।
স্থবির হরমুজ প্রণালী: বিশ্ব অর্থনীতিতে সিঁদুরে মেঘ
পারস্য উপসাগরের এই যুদ্ধ কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবহনের পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই জ্বালানি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের পকেটে। আপাতত ফুজাইরাহ’র ধোঁয়া মধ্যপ্রাচ্যের এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতেরই সংকেত দিচ্ছে।
