তুফানগঞ্জ: কোনওটির শেষের চারটি সংখ্যার মধ্যে মাঝের দুটি কালো স্টিকারে ঢাকা। কোনওটিতে নম্বর প্লেটে এমনভাবে ‘রিফ্লেক্টর স্টিকার’ লাগানো হয়েছে যে, আলো পড়লে ঝাপসা দেখায়। কোনওটিতে আবার ৪৫ ডিগ্রি কোণে নম্বর প্লেট লাগানো। প্রকৃত নম্বর কি? চলমান অবস্থায় খুঁজে পাওয়া দায়। তুফানগঞ্জ শহরে দিনেরবেলা তো বটেই, রাতের শহরেও বেপরোয়াভাবে বাইক চালাচ্ছেন একদল তরুণ। তবে বসে নেই ট্রাফিক পুলিশও। তারাও ধরপাকড় করতে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু নম্বর প্লেট ঢেকে রাখার আসল কারণ কী? এ ব্যাপারে তুফানগঞ্জ থানার ট্রাফিক পুলিশ বিপুল বর্মন বলেন, ‘জরিমানার হাত থেকে রক্ষা পেতে কিছু সংখ্যক চালক এধরনের কাণ্ড করছেন। ব্ল্যাকটেপ দিয়ে নম্বর ঢেকে দেওয়ার পাশাপাশি অনেকে নম্বর প্লেটও খুলে রাখারও চেষ্টা করছেন। এরকমটা চোখে পড়লেই তৎক্ষণাৎ জরিমানা করা হচ্ছে এমনকি বাইক বাজেয়াপ্তও করা হচ্ছে।’
গাড়ির ভুয়ো কাগজপত্র কিংবা মাথায় হেলমেট না থাকলে সেই চালককে আটকে জরিমানা করার দিন শেষ। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে শহরের ব্যস্ত মোড়গুলিতে ট্রাফিক পুলিশ চলন্ত মোটরবাইকের নম্বর প্লেট স্ক্যান করে নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরে জরিমানা এবং চিঠি পাঠিয়ে দিচ্ছে। হেলমেট, অতিরিক্ত বাইক আরোহী, অত্যধিক গতি সহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন ভাঙলেই মোটা টাকা জরিমানা হচ্ছে। আর এখানেই বেধেছে বিপত্তি। সেই চালান ও ট্রাফিক পুলিশের হাত থেকে বাঁচতেই এমনটা করছেন কেউ কেউ।
সোমবার শহরের কাছারি মোড় এলাকায় দাঁড় করিয়ে রাখা ছিল একটি বাইক। কাছে এগিয়ে যেতেই দেখা যায়, প্লেটের শেষ সংখ্যা ব্ল্যাকটেপে ঢাকা। সে সময় ওই চত্বরে কোনও ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় বরাতজোরে বাঁচেন ওই বাইকের মালিক। শহরের রামহরি মোড় এলাকায় আবার আরেক কাণ্ড চোখে পড়ে। সেখানে একটি মোটরবাইকে নম্বর প্লেটটি নীচের অংশ এমনভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে যাতে কোনও নম্বরই বোঝার ক্ষমতা নেই। আর এ ধরনের ঘটনা যে আইনবিরুদ্ধ স্পষ্ট করে দিয়েছেন পরিবহণ দপ্তরের কর্তারা।
আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, মোটরযান আইন অনুযায়ী, সমস্ত গাড়িতে ‘হাই সিকিউরিটি রেজিস্ট্রেশন প্লেট’ (এইচএসআরপি) থাকার কথা। এতে ‘ইউনিক কোড’-ও থাকে। দু’চাকা ও তিন চাকা যানের ক্ষেত্রে ২০০ বাই ১০০ মিলিমিটার এবং সাধারণ চার চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে ৩৪০ বাই ২০০ মিলিমিটারের নম্বর প্লেট হওয়ার কথা। এই নির্দিষ্ট মাপের এইচএসআরপি বিশেষ ছাঁচের অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি। আর সে কারণে সহজে বিকৃত হয় না। যা নকল করা আইনত দণ্ডনীয়।
