উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ধাক্কা খেয়ে পালটা চালে বিশ্ব অর্থনীতিতে কম্পন ধরিয়ে দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের শুল্ক নীতি বেআইনি ঘোষিত হতেই হোয়াইট হাউস থেকে ‘প্ল্যান বি’ কার্যকর করার ঘোষণা দিলেন তিনি। এবার বিশ্বের সমস্ত দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০% শুল্ক (Trump International 10% Tariff) আরোপের নথিতে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প, যা আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে চলেছে।
আদালতের রায় ও ট্রাম্পের তোপ
শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট (US Supreme Courtroom) এক ঐতিহাসিক রায়ে ট্রাম্পের (Donald Trump) আগের শুল্ক নীতিকে ‘বেআইনি’ বলে ঘোষণা করে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে জানায়, জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে কংগ্রেসকে এড়িয়ে প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ১৯৭৭ সালের ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন’ (IEEPA) প্রয়োগ করে শুল্ক চাপানো সংবিধানসম্মত নয় বলে জানায় শীর্ষ আদালত।
এই রায়কে কার্যত তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “ওভাল অফিস থেকে সকল দেশের ওপর ১০% বিশ্বব্যাপী শুল্ক স্বাক্ষর করা আমার জন্য সম্মানের বিষয়।” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আদালত তাঁর ক্ষমতা খর্ব করতে চাইলেও তিনি ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা প্রয়োগ করে এই নতুন শুল্ক চাপাবেন।
অর্থনীতিতে বড় প্রভাবের আশঙ্কা
বর্তমানে আমেরিকায় বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০% থেকে ৫০% পর্যন্ত শুল্ক বলবৎ রয়েছে। নতুন এই ১০% শুল্ক সেই বিদ্যমান করের অতিরিক্ত হিসেবে যোগ হবে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে শুল্ক রাজস্ব থেকে আয় যাতে অপরিবর্তিত থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। আপাতত পাঁচ মাসের জন্য এই জরুরি শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্বের তাবড় অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্রাম্পের এই জেদ এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বিশ্ববাজারে মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ভারত, চিন ও ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে আমেরিকায় রপ্তানি হওয়া পণ্যের দাম একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে। আদালতের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের এই সংঘাত মার্কিন রাজনীতি ও বিশ্ব বাণিজ্যে এক চরম অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
