সামসী: চাঁচলের কলম বাগানকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা এবার চরমে। শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আক্রমণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা সভা করে চাঁচলের মাটি থেকেই কড়া জবাব দিল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার সেই একই মাঠে পালটা সভা করে শুভেন্দুকে তীব্র ভাষায় বিঁধলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি (Abdur Rahim Buxi) ও প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (Prasun Banerjee)। গাধার পিঠে চাপানো থেকে শুরু করে ‘তৎকাল বিজেপি’ বলে কটাক্ষ—সব মিলিয়ে রবিবাসরীয় মালদা সরগরম রইল (TMC vs BJP) রাজনৈতিক বাকযুদ্ধে।
এদিনের সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ করে মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, “আপনি এত মিথ্যাচার করছেন যে, আপনার জন্য আমি অনলাইন মারফত গুজরাট থেকে একটা গাধা অর্ডার করেছি। ভোটের পর আপনাকে সেই গাধার পিঠে চাপিয়ে, মাথা ন্যাড়া করে, চুনকালি মাখিয়ে পাঠাব।” এখানেই শেষ নয়, চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে রহিম আরও বলেন, “আমরা যদি সেদিন একটা ইশারা করতাম, তবে শুভেন্দুও থাকত না, কোনও প্যান্ডেলও থাকত না।” নাম না করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও কটাক্ষ করেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী গত সভায় প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘চরিত্রহীন’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এদিন তার জবাবে প্রসূন বলেন, “ও তো তৎকাল বিজেপি, চ্যাংড়া ছেলে। ও চুলকেছে, আমরা এবার ঘা করতে জানি।” বিজেপির উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি প্রশ্ন করেন, “দেশটা কি বিজেপির বাপের নাকি? ২০২৬-এর পর রাজ্য থেকে বিজেপি দলটাই উঠে যাবে।” গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিজেপিকে রাজ্য থেকে উপড়ে ফেলার ডাক দেন তিনি।
তৃণমূলের এই আক্রমণের পর পাল্টা দিতে দেরি করেনি বিজেপিও। উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি অভিষেক সিংহানিয়া বলেন, “রহিম বক্সি যাঁর ছবি দেখে ভোট চাইবেন, তাঁকে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মালদহের মানুষই এবার রহিম বক্সিকে গাধার পিঠে চাপাবে।”
এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় (যাঁকে শুভেন্দু ‘সমর বুড়ো’ বলেছিলেন), চাঁচলের বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ, মন্ত্রী তজমুল হোসেন-সহ জেলার প্রথম সারির তৃণমূল নেতৃত্ব।
