প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই চরম অস্থিরতা তৈরি হলো পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ (TMC revolt in Khandaghosh) বিধানসভা কেন্দ্রে। নবীনচন্দ্র বাগকে দল পুনরায় প্রার্থী করায় ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছে খণ্ডঘোষের তৃণমূল শিবির। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূল কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রার্থী বদলের দাবিতে সরব হলেন ব্লক সভাপতি ও জেলা পরিষদের পদাধিকারী সহ একাধিক নেতা। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, প্রার্থী বদল না হলে গণ-ইস্তফা দিয়ে রাজনীতির ময়দান থেকে সরে দাঁড়াবেন তাঁরা।
বিক্ষোভের নেপথ্যে ‘আদি বনাম নব্য’:
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ব্লক তৃণমূল (TMC) সভাপতি অপার্থিব ইসলাম (ফাগুন) ও জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় বিদায়ী বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগের বিরুদ্ধে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, দলে থেকে যাঁরা গদ্দারি করে, তাদেরই মূল্যায়ন করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সিপিএমের প্রতীকে জয়ী হওয়া নবীনচন্দ্র বাগ ২০১৬ সালে মুকুল রায়ের হাত ধরে তৃণমূলে আসেন এবং পরে বিধায়ক হন। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, দুর্দিনের তৃণমূল পরিবার থেকে কাউকে প্রার্থী না করে কেন এক ‘দলত্যাগী’র ওপর বারবার ভরসা রাখা হচ্ছে।
গণ-ইস্তফার হুঁশিয়ারি:
ক্ষোভ এতটাই চরমে যে, ব্লক সভাপতি অপার্থিব ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা দলীয় সমস্ত কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন। বিশ্বনাথ রায় জানিয়েছেন, তিনি খুব দ্রুত নিয়ম মেনে জেলা পরিষদের পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। শুধু ব্লক স্তরের নেতৃত্বই নয়, খণ্ডঘোষের একাধিক পঞ্চায়েত প্রধান সহ গোপালবেরা, কৈয়র, বেরুগ্রাম, সগরাই, শাঁকারি ১ নম্বর ও উখরিদ অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতিরাও ইস্তফা দেওয়ার পথে হাঁটছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
এদিন ব্লক অফিসে ‘নবীন বাগ মুর্দাবাদ’ স্লোগান ওঠায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে এমন ফাটল নির্বাচনী ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে নবীনচন্দ্র বাগের প্রতিক্রিয়া জানতে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁর তরফ থেকে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। খণ্ডঘোষে এই ‘গৃহযুদ্ধ’ থামাতে এখন শীর্ষ নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
