শিলিগুড়ি: নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সাত দিন পর অবশেষে উদ্ধার হলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের এক তৃণমূল কাউন্সিলরের তরুণী কন্যা। অপহরণ ও প্রতারণার অভিযোগে (TMC Councillor daughter kidnap) সুশান্ত সাহা নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পানিট্যাঙ্কি ফাঁড়ির পুলিশ। ধৃত যুবক নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে ওই তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে শিলিগুড়ির ওই কাউন্সিলরের মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের পক্ষ থেকে পানিট্যাঙ্কি আউটপোস্টে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ তরুণীর মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করা শুরু করে। যদিও এই কদিন বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেননি কাউন্সিলর ও তাঁর স্বামী। অবশেষে শুক্রবার সকালে সেবক রোডের সরকার পাড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত সুশান্ত সাহাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী জানান, হায়দারপাড়ার শিবরামপল্লির বাসিন্দা সুশান্ত সাহা নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিয়েছিল। তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু পরে তরুণী জানতে পারেন যে সুশান্ত বিবাহিত এবং তাঁর একটি সন্তানও রয়েছে। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ওই তরুণী পুলিশের কাছে বয়ান দেন। পুলিশের দাবি, সুশান্ত সাহা মূলত অবস্থাপন্ন ঘরের মেয়েদের টার্গেট করত।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে যে, অভিযুক্ত সুশান্তর স্ত্রী শম্পা সাহা আগেই ভক্তিনগর থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে মারধর ও অত্যাচারের লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। শম্পা দেবীর অভিযোগ, সুশান্তর একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে এবং প্রতিবাদ করলেই তাঁর ওপর শারীরিক নিগ্রহ চলত।
শুক্রবার ধৃত যুবককে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া তরুণীকেও গোপন জবানবন্দির জন্য আদালতে তোলা হয়। পানিট্যাঙ্কি ফাঁড়ির পুলিশ পুরো ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে তদন্ত জারি রেখেছে।
