উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে অবশেষে মুক্তির ছাড়পত্র পেল বিতর্কিত সিনেমা ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ড’ (The Kerala Story 2)। শুক্রবার বিকেলে সিনেমাটির মুক্তির ওপর জারি করা অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে কেরালা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ (Kerala Excessive Court docket)। বিচারপতি এস এ ধর্মাধিকারী এবং বিচারপতি পি ভি বালকৃষ্ণনের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গেল বেঞ্চের আগের রায়টিকে খারিজ করে এই সিদ্ধান্ত জানায়। এর ফলে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
সিনেমাটি আজই অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি বেচু কুরিয়ান থমাসের সিঙ্গেল বেঞ্চ সিনেমাটির সেন্সর সার্টিফিকেটের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি পিটিশনের ভিত্তিতে ১৫ দিনের স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন। আদালত তখন সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশনকে (CBFC) নির্দেশ দিয়েছিল সিনেমার বিরুদ্ধে ওঠা আপত্তিগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখতে। কিন্তু নির্মাতারা ওই দিনই জরুরি ভিত্তিতে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন। বিষয়টি এতটাই গুরুত্ব পায় যে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাতটায় আদালতের বিশেষ অধিবেশন বসে এবং দীর্ঘ দুই ঘণ্টা শুনানি চলে।
বিশিষ্ট বিজ্ঞানী শ্রীদেব নাম্বুদিরি এই সিনেমার ট্রেলার ও বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি তুলে আদালতকে জানিয়েছিলেন যে, এটি কেরালা রাজ্যকে অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরছে। তাঁর দাবি ছিল, সিনেমায় দেখানো তিনটি মেয়ের গল্প— যারা কেরালা, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের বাসিন্দা এবং যারা তথাকথিত জঙ্গিগোষ্ঠীর পাতা ‘রোমান্স ওয়েপোনাইজ’ বা ধর্মান্তকরণের ফাঁদে পা দিয়েছে— তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে সিনেমার নাম কেন ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ রাখা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পিটিশনার। তাঁর মতে, এটি একটি বিশেষ অঞ্চলের মানুষের ওপর কলঙ্ক লেপন করার চেষ্টা।
বিপুল অমৃতলাল শাহ প্রযোজিত এবং কামাখ্যা নারায়ণ সিং পরিচালিত এই সিনেমায় হিন্দু মেয়েদের আন্তঃধর্মীয় বিবাহের মাধ্যমে ইসলামে ধর্মান্তকরণ এবং তাঁদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার গল্প দাবি করা হয়েছে। উলকা গুপ্তা, অদিতি ভাটিয়া এবং ঐশ্বরিয়া ওঝা অভিনীত এই সিনেমাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আদালতের আজকের রায়ের পর নির্মাতারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার পর প্রেক্ষাগৃহে কবে সিনেমাটি মুক্তি পাবে, তা নিয়ে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবেন বিপুল শা। তবে সেন্সর বোর্ডের দেওয়া ‘U/A’ রেটিং এবং আদালতের সবুজ সংকেত সত্ত্বেও সিনেমার বিষয়বস্তু নিয়ে জনমানসে বিতর্কের আঁচ যে কমবে না, তা বলাই বাহুল্য।
