উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারত মহাসাগরের নীল জলরাশি এখন রক্তে লাল। ভারত থেকে নৌ-মহড়া সেরে ফেরার পথে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডোর আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেল ইরানি যুদ্ধজাহাজ IRIS Dena। ঘটনার খবর পেয়েই মানবিক খাতিরে বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ভারতীয় নৌসেনা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম টর্পেডো হামলা
বুধবার (৪ মার্চ) ভোরে কলম্বোর মেরিটাইম রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টারে (MRCC) প্রথম বিপদ সংকেত (Misery Name) পাঠায় আক্রান্ত ইরানি জাহাজটি। শ্রীলঙ্কার গালে (Galle) থেকে মাত্র ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই হামলা চালানো হয়। পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইরান ভেবেছিল তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরাপদ, কিন্তু পরিবর্তে তারা এক ‘নিঃশব্দ মৃত্যু’র সম্মুখীন হয়েছে।
উদ্ধারকাজে ভারতীয় নৌসেনার তৎপরতা
বিপদ সংকেত পাওয়ামাত্রই সক্রিয় হয়ে ওঠে ভারতীয় নৌসেনা। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সমন্বয় রেখে শুরু হয় ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ অপারেশন:
• INS Tarangini ও INS Ikshak: কাছেই থাকা আইএনএস তরঙ্গিনী-কে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এছাড়া কোচি থেকে রওনা দিয়েছে আইএনএস ইক্ষক।
• আকাশপথে নজরদারি: নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে পাঠানো হয়েছে দূরপাল্লার মেরিটাইম প্যাট্রোল এয়ারক্রাফট। প্রয়োজনে লাইফ-র্যাফট ড্রপ করার জন্য আরও একটি বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
• মানবিক সাহায্য: নৌসেনা জানিয়েছে, নিখোঁজদের প্রাণের সন্ধানে ভারতীয় জাহাজগুলো ওই এলাকাতেই অবস্থান করছে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো যুদ্ধে টর্পেডোর ব্যবহার দেখল বিশ্ব। মার্কিন-ইজরায়েল বনাম ইরান সংঘাত যে এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, শ্রীলঙ্কা উপকূলে এই হামলা তার স্পষ্ট প্রমাণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
