শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: যুদ্ধের জেরে বন্ধ থাকার পর ফের ইরানে দেশীয় চায়ের রপ্তানি (Tea Export) শুরু হল। সম্প্রতি কলকাতা (Kolkata) থেকে মুম্বই (Mumbai) বন্দর হয়ে এক মিলিয়ন কিলোগ্রাম চা সেদেশের পারস্য উপসাগরের বন্দর আব্বাস শহরে পৌঁছেছে। নভি মুম্বইয়ের নাভা সেভা বন্দরে জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে স্তূপীকৃত ওই চা ইরান যাত্রার অপেক্ষায় ছিল। ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধ স্থগিত থাকায় রপ্তানি শুরু হওয়ার বিষয়টিকে উত্তরবঙ্গের চা মহল স্বাগত জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতের চায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা হল আরব দুনিয়ার ওই দেশটি। সেখানে সিটিসি চায়ের কদর সবচেয়ে বেশি। ফলে এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে অসম ও পরোক্ষভাবে ডুয়ার্স-তরাইয়ের চা বাগানগুলির স্বার্থ জড়িয়ে আছে।
চা মহল জানাচ্ছে ভারত মোট চা রপ্তানির ২০ শতাংশই ইরানে যায়। ২০২৪ সালে ওই দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩১ মিলিয়ন কিলোগ্রাম। রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত এশিয়ান টি কোম্পানির নির্দেশক মোহিত আগরওয়াল বলেন, ‘ইরানে জাহাজ চলাচলের রুট খুলে যাওয়ার বিষয়টি অবশ্যই আমাদের কাছে একটি বড় স্বস্তি।’ ক্ষুদ্র চা চাষিদের সর্বভারতীয় সংগঠন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিস্টা)-এর সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বললেন, ‘রাশিয়ার পরই ইরান হল আমাদের চায়ের মূল ক্রেতা। সেখানে রপ্তানি বন্ধ থাকার অর্থ হল চা শিল্পের ওপর একটি বড়সড়ো ধাক্কা। উত্তরবঙ্গের স্বার্থও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। আশা করছি এখন সবকিছুই মসৃণ গতিতে চলবে।’ চা বাগান বিশেষজ্ঞ রামঅবতার শর্মা বলছেন, ‘রপ্তানি বাণিজ্যর ওপর দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি অনেকটাই জড়িত। এমনিতেই বর্তমানে চা শিল্পে নানা ধরনের সংকট চলছে। এই অবস্থায় ইরানের সঙ্গে বহির্বাণিজ্য শুরু হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি ছিল।’
