গৌতম দাস,গাজোল: মালদার গাজোলে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে এক তাৎপর্যপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ সারলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার বিকেলে তিনি সোজা পৌঁছে যান পদ্মশ্রী প্রাপক তথা বিশিষ্ট সমাজসেবী কমলি সরেনের (গুরুমা) বাসভবনে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে গুরুমার হাতে উপহার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং তাঁর আশ্রমের মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন শুভেন্দু।
নারী দিবসে ‘গুরুমা’র আঙিনায় বিরোধী দলনেতা
কোটাল হাটিতে কমলি সরেনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান শুভেন্দু অধিকারী। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস, তাই সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রাণ গুরুমার আশীর্বাদ নিতে এসেছি। তিনি দীর্ঘকাল ধরে এখানে আশ্রম চালাচ্ছেন এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের সেবা করছেন। আগামী দিনে তাঁর পাশে থাকার সবরকম চেষ্টা করব।”
“মমতা সরকার আদিবাসী বিরোধী”: তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর
এদিন গাজোলের মাটি থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের রেশ টেনে তিনি বলেন, “কালকের ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানানোর ভাষা নেই। এই সরকার স্পষ্টতই আদিবাসী বিরোধী।”
বিরোধী দলনেতার অভিযোগের তির ছিল মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর:
• ভুয়ো শংসাপত্র: রাজ্যে লক্ষ লক্ষ ভুয়ো তপশিলি উপজাতি (ST) সার্টিফিকেট বিলি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
• অধিকার হরণ: আদিবাসীদের জল-জঙ্গল-জমির অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের দেওয়া সাংবিধানিক সুযোগ-সুবিধা থেকে তাঁদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।
• চাকরিতে সংরক্ষণ: বর্তমান সরকারের জমানায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে এসসি ও এসটিদের জন্য কোনও নির্দিষ্ট সংরক্ষণ নীতি নেই বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
• কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাধা: প্রধানমন্ত্রী মোদী সারা দেশে ‘একলব্য স্কুল’ ও ‘আদর্শ গ্রাম’ করতে চাইলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে তা কার্যকর করতে দিচ্ছে না।
‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বিতর্ক
শুভেন্দু অধিকারী আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পশ্চিমবঙ্গকে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বানাতে চাইছে। কিন্তু মানুষ এই ষড়যন্ত্র ধরে ফেলেছে। এবারের নির্বাচনে ব্যালটেই এর যোগ্য জবাব দেবে সাধারণ মানুষ।” কমলি সরেনের বাড়ি থেকে বেরিয়েই তিনি গাজোলে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র কর্মসূচিতে যোগ দিতে রওনা হন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করতেই শুভেন্দুর এই মাস্টারস্ট্রোক।
