বুকে ‘নোংরা’ দাগ। ২০১১ সালে দেশের বিশ্বকাপ জয় প্রায় নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছিলেন গৌতম গম্ভীর। ফাইনালে করেছিলেন ৯৭ রান। ঠিক যেন ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনের মতো। গম্ভীর এখন ভারতীয় দলের কোচ। আর তাঁর ‘ছাত্র’ সঞ্জুর অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংসে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে চলে গেল টিম ইন্ডিয়া। অথচ এই সঞ্জুকে দীর্ঘদিন শুধু অপেক্ষা করে যেতে হয়েছে। যা নিয়ে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলে গেলেন, ‘অপেক্ষা করলে ভালো মানুষের সঙ্গে ভালোই হয়।’ আর ম্যাচ শেষে সোজা গাড়ি করে কালীঘাট মন্দিরে চলে গেলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও জয় শাহ।
এই বিষয়ে আরও খবর
৫০ বলে ৯৭ রানের ইনিংসটা হয়তো ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ম্যাচ জিতিয়ে মাঠেই বসে পড়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন। তারপর সাজঘরে গিয়ে ব্যাটে চুম্বন। বোঝাই যাচ্ছিল, ইনিংসটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সঞ্জুর ব্যাটেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে বড় রান তাড়া নজির হল। কিন্তু অভিষেক শর্মা-ঈশান কিষানের ওপেনিং কম্বিনেশন ভেঙে তাঁর জায়গা হচ্ছিল না। অবশেষে জায়গা পেতেই নিজেকে ফের প্রমাণ করলেন। আর এর চেয়ে বড় মঞ্চই বা পাবেন কোথায়?
‘বড়’ ম্যাচ থেকে যে কারও মনে পড়তে পারে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে গম্ভীর করেছিলেন ৯৭ রান। ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করতে মাটিতে বুক পেতে দিয়েছিলেন। সেই কাদা দাগই ভারতের গর্ব। গম্ভীরই কিন্তু সঞ্জুকে ভারতীয় দলে নিয়মিত জায়গা করে দিয়েছিলেন। অফ ফর্মেও ভরসার হাত রেখেছিল ম্যানেজমেন্ট। মাঝে সেই জায়গাটা কিছুটা নড়বড়ে বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু ম্যাচের পর গম্ভীর বলে যান, “আমরা সবসময় ওর প্রতিভার উপর ভরসা করেছিলাম। জানতাম, যখন দরকার পড়বে তখন ও ভালো খেলবে। সঞ্জু বিশ্বমানের প্লেয়ার। এই পিচ সঞ্জু খুব ভালো মতো চেনে। এই ইনিংসটাকে ওকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।”
আমরা সবসময় ওর প্রতিভার উপর ভরসা করেছিলাম। জানতাম, যখন দরকার পড়বে তখন ও ভালো খেলবে। সঞ্জু বিশ্বমানের প্লেয়ার। এই পিচ সঞ্জু খুব ভালো মতো চেনে। এই ইনিংসটাকে ওকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
অন্যদিকে অতিমানবিক ইনিংসের পর সঞ্জুকে টুপি খুলে কুর্নিশ জানালেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। এটা ঠিক যে, অভিষেক বা তিলকের জায়গায় সঞ্জুকে খেলানোয় তাঁর আপত্তি ছিল। ইডেনে কিন্তু সেই সঞ্জুই পরিত্রাতা। কুর্নিশ জানানো ছাড়া উপায় কী? ভারত অধিনায়ক বললেন, “আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি ভালো মানুষদের সঙ্গে ভালোই হয়। তবে অপেক্ষা করতে হয়, ধৈর্য ধরতে হয়। যখন সঞ্জু খেলছিল না, তখনও নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম করে গিয়েছে। সঠিক সময়ে এসে তার ফল পেল।”
এই বিষয়ে আরও খবর
Indian Captain Suryakumar Yadav bowing right down to Sanju Samson after that absolute masterclass! 🙇♂️🔥pic.twitter.com/K16KZ6IXvH
— Invincible X 🌟 (@Livingisnoteazy) March 1, 2026
ম্যাচের পর ইডেন থেকে বেরিয়েই কালীঘাট মন্দিরে চলে যান সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। একসময় দু’জন বিসিসিআইতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। এদিন ইডেনে একসঙ্গে ম্যাচও দেখেন। এরপর কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেন। উল্লেখ্য, ম্যাচের আগে গৌতম গম্ভীর, সূর্যকুমার যাদবরাও কালীঘাটে পুজো দিতে গিয়েছিলেন।
Kolkata, West Bengal: ICC Chairman Jay Shah and former cricketer Sourav Ganguly depart from Eden Gardens Stadium
India beat the West Indies by 5 wickets within the final Tremendous 8 T20 World Cup match pic.twitter.com/Z7UTmcRZ9h
— IANS (@ians_india) March 1, 2026
সর্বশেষ খবর
