উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভাষা আলাদা হলেও যে হৃদয়ের টানে কোনও বাধা থাকে না, তার প্রমাণ দিল কর্ণাটকের একটি ভাইরাল ভিডিও। চলন্ত বাসে এক মহিলা কন্ডাক্টরের স্কেচ বানিয়ে তাঁকে অবাক করে দিলেন আকাশ সেলভারাসু (Akash Selvarasu) নামে এক প্রতিভাবান শিল্পী। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মুহূর্তটি এখন লক্ষ লক্ষ মানুষের মন জয় করে নিয়েছে।
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, কর্ণাটক স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের (KSRTC) একটি বাসে নিজের ডিউটিতে ব্যস্ত ছিলেন ওই মহিলা কন্ডাক্টর। যাত্রীদের টিকিট দেওয়া এবং ভাড়া সংগ্রহের মাঝে তিনি টেরও পাননি যে, পেছনের সিটে বসে কেউ একজন তাঁর প্রতিকৃতি আঁকছেন। শিল্পী আকাশ সেলভারাসু অত্যন্ত নিপুণভাবে ওই মহিলার পরিশ্রমী মুখের একটি স্কেচ তৈরি করেন।
আঁকা শেষ হওয়ার পর আকাশ যখন সেই স্কেচটি মহিলা কন্ডাক্টরের হাতে তুলে দেন, তখন তাঁর মুখে যে চওড়া হাসি ফুটে ওঠে, তা ছিল দেখার মতো। অবাক বিস্ময়ে তিনি নিজের ছবিটির দিকে তাকিয়ে থাকেন এবং খুশিতে আত্মহারা হয়ে বাসের অন্যান্য যাত্রীদেরও সেই ছবি দেখাতে শুরু করেন। তাঁর চোখে-মুখে ফুটে ওঠা সেই অনাবিল আনন্দই ছিল শিল্পীর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।
নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই ভিডিওটি শেয়ার করে আকাশ লেখেন, “একজন শিল্পীর কাছে আসল পুরস্কার হলো হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে কিছু সৃষ্টি করার আনন্দ।” তিনি আরও জানান, ওই মহিলা কন্ডাক্টর কেবল কন্নড় ভাষা জানতেন, আর আকাশ সেই ভাষা বুঝতেন না। কিন্তু তাঁদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছিল কেবল বিশুদ্ধ আবেগ। আকাশের কথায়, “তিনি অত্যন্ত নম্র এবং শান্ত স্বভাবের মানুষ। আমার আঁকা ছবিটা তিনি গর্বের সাথে সবাইকে দেখাচ্ছিলেন, যা আমার কাছে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।”
ভিডিওটি পোস্ট করার পর থেকেই তা হু হু করে ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ (২ মিলিয়ন) মানুষ ভিডিওটি লাইক করেছেন। কমেন্ট সেকশনে উপচে পড়ছে নেটিজেনদের ভালোবাসা। একজন লিখেছেন, “তিনি যেভাবে সবাইকে ছবিটি দেখাচ্ছিলেন, তা সত্যিই মন ছুঁয়ে গেল।”অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, “কাউকে খুশি করা পৃথিবীর সেরা কাজগুলোর মধ্যে একটি।” তৃতীয় এক ব্যক্তির কথায়, “শিল্পী তাঁকে খুশি করলেন, আর তিনি সেই খুশি সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে শিল্পীকে গর্বিত করলেন।”
ক্লান্তিকর কর্মব্যস্ততার মাঝে এই ছোট্ট এক টুকরো মানবিকতা ও শিল্পের ছোঁয়া আবারও প্রমাণ করল যে, দয়া এবং সৃজনশীলতা যে কোনও বিভেদ ঘুচিয়ে দিতে পারে।
