ভোটের মুখেই ঢালাও ভাতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত। কোনও সরকারি ঘোষণা ছাড়াই রাজ্যবাসীর অ্যাকাউন্টে ঢুকছে সরকারি টাকা। ভোটমুখী তামিলনাড়ুর ‘খয়রাতি সংস্কৃতিকে’ তুলোধোনা করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত প্রশ্ন তুলেছেন, আমজনতার মুখের সামনে এইভাবে সমস্ত কিছু বিনামূল্যে তুলে ধরলে দেশে কী সংস্কৃতি তৈরি হবে? প্রসঙ্গত, কেবল তামিলনাড়ু নয়, দেশের একাধিক রাজ্যেই রয়েছে এমন নানা জনমুখী প্রকল্প।
আরও পড়ুন:
তামিলনাড়ু পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কর্পোরেশনের আবেদনের শুনানি ছিল বৃহস্পতিবার। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই তামিলনাড়ুকে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর তোপ, “দেশজুড়ে কী সংস্কৃতি তৈরি করছেন আপনারা? ধরে নিলাম আপনারা জনতার পাশে থাকতে চান, তাদের জন্য উন্নয়নমূলক প্রকল্প চান। যাদের পক্ষে বিদ্যুতের বিল মেটানো সম্ভব নয় তাদের জন্য প্রকল্প হতেই পারে। কিন্তু কাদের বিল মেটানোর ক্ষমতা রয়েছে আর কাদের নেই, সেই বিভাজনটা স্পষ্ট না করেই আপনারা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ বন্টন শুরু করে দিলেন। এটা কি একপ্রকার তোষণনীতি নয়?”
উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুর প্রত্যেকটি বাড়িতে ১০০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। ২ কোটিরও বেশি মানুষ এই সুবিধাভোগ করেন বলে অনুমান। শীর্ষ আদালতের প্রশ্ন, তাড়াহুড়ো করে বিদ্যুতের এই ছাড় কেন ঘোষণা করা হল? এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাগুলি লোকসানের কবলে পড়ছে। সেই লোকসানের জেরে দেশের অর্থনীতিতেও চাপ বাড়বে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মনে করছে, ভোটের ঠিক আগে তাড়াহুড়ো করে এইভাবে প্রকল্প ঘোষণা করলে আমজনতা কাজ করতেই চাইবেন না।
“কাদের বিল মেটানোর ক্ষমতা রয়েছে আর কাদের নেই, সেই বিভাজনটা স্পষ্ট না করেই আপনারা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ বন্টন শুরু করে দিলেন। এটা কি একপ্রকার তোষণনীতি নয়?”
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ভোটের আগে বিরাট চমক দিয়েছিল তামিলনাড়ুর সরকার। বাংলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো তামিলনাড়ুতেও রয়েছে মহিলাদের জন্য বিশেষ সরকার প্রকল্প। এখানকার মহিলারা মাসে ১০০০ টাকা করে পান। কিন্তু কোনও ঘোষণা ছাড়াই সপ্তাহখানেক আগে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢোকে ৫ গুণ বেশি টাকা। অ্যাকাউন্টে একসঙ্গে ৫০০০ টাকা পেয়ে অবাক হয়ে গিয়েছেন সেখানকার মহিলারা। ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল শুরু হয়েছে। সেই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্ট কিছু না বললেও বিনামূল্যে বিদ্যুৎ বন্টন নিয়ে তুলোধোনা করল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
সর্বশেষ খবর
