উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) আগে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Courtroom)। শুক্রবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ডিজিকে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে (DGP) চরম পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে। নির্বাচন কমিশন এদিন ২৮ টি অভিযোগের কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, কোনও ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নেয়নি। দু-একটি ক্ষেত্রে চুনোপুটিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও প্রভাবশালীদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট ৭ দিনের মধ্যে ডিজিকে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় রোল অবজার্ভার ও বুথস্তরের আধিকারিকরা (BLO) বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি, ফর্ম-৭ জমা দেওয়া এবং তা নিয়ে আপত্তি ঘিরেও একাধিক জায়গা থেকে অশান্তির খবর এসেছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনের আগে এমন অবনতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে মোটেই অনুকূল নয়। পরিস্থিতি অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণে না এলে এবং পুলিশ উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে ডিজি-কে এর দায় নিতে হবে।
শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের (ECI) তরফেও রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়। কমিশনের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে মেটাতে অতিরিক্ত গ্রুপ-বি কর্মী চেয়ে রাজ্যকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি রাজ্যের অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, রাজ্যের কাছে কর্মী না থাকা আইনি বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী, আর কর্মী থাকা সত্ত্বেও তাঁদের কাজে না ছাড়াটা অগ্রহণযোগ্য। প্রয়োজনে কমিশন নিজেদের আধিকারিক এনে কাজ চালাতে পারবে বলেও আদালত জানিয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের আইনজীবী অভিযোগ করেন যে, কমিশন ‘বিশেষ পর্যবেক্ষক’ পদ তৈরি করে ইআরও-দের কাজে হস্তক্ষেপ করছে। যদিও কমিশন এই দাবি খারিজ করে জানায়, প্রথম থেকেই এই পর্যবেক্ষকরা দায়িত্বে রয়েছেন। আদালতে প্রধান বিচারপতি কমিশনকে প্রশ্ন করেন, পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হচ্ছে না? জবাবে কমিশন জানায়, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তারা দ্বিধাগ্রস্ত। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে এসআইআর-এর কাজ করানোর জন্য রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। অন্যদিকে, ডিজির আইনজীবী দাবি করেছেন যে, কমিশন আদালতে মিথ্যা বলছে। সব মিলিয়ে, এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যে গুরুতর জটিলতা তৈরি হবে, তা কমিশন ও রাজ্য—উভয়কেই মনে করিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ভোটের আগে প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে রাজ্যের ওপর যে বড়সড় চাপ তৈরি হল, তা বলাই বাহুল্য।
