উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ সোমবারই দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে দেওয়ানি বিধি চালু করেছে উত্তরাখণ্ড সরকার। জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে নাগরিকদের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতেই এই বিধি চালু করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সেরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। এই বিধি চালু হতেই বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে দেশের একাধিক রাজ্যে। মুসলিম মহিলারা কি ধর্মনিরপেক্ষতা মানতে পারবেন? কেন্দ্রকে এমনই প্রশ্ন করল সুপ্রিম কোর্ট।
সম্প্রতি, সাফিয়া পিএম নামে কেরালার এক মহিলা তাঁর পুরো সম্পত্তি মেয়েকে দিয়ে যেতে চেয়ে আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টে। মহিলা জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে অটিস্টিক হওয়ার কারণে তার দেখভালের দায়িত্ব মেয়েকেই দিতে চান। তাঁর মেয়েই ভাইয়ের দেখাশোনা করে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি উঠেছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে। কেন্দ্রের কাছে মুসলিম মহিলারা ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে এই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৫ মে।
শরিয়ত আইন অনুযায়ী বাবা-মায়ের সম্পত্তি ভাগাভাগি হলে মেয়ের দ্বিগুণ অংশ পায় ছেলেরা। সাফিয়া পিএম তাঁর আবেদনে বলেছেন, যদি তাঁর ছেলে ডাউন সিনড্রোমের কারণে মারা যায়, তবে তাঁর মেয়ে তাঁর সম্পত্তির মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পাবে। বাকি অংশ চলে যাবে তাঁর আত্মীয়দের কাছে। সেই কারণেই তিনি চাইছেন তার সম্পত্তির পুরো টাকাটাই যেন দেওয়া হয় মেয়েকে। সাফিয়ার বক্তব্য, তিনি এবং তাঁর স্বামী জন্মসূত্রে মুসলিম হলেও, ইসলামের কোনও আচার-আচরণ তাঁরা মানেন না। তাই তাঁকে ভারতীয় উত্তরাধিকার আইন অনুসারে তাঁর সম্পত্তি ভাগাভাগির অনুমতি দেওয়া হোক।
বর্তমানে ভারতীয় উত্তরাধিকার আইন প্রযোজ্য নয় মুসলমানদের ক্ষেত্রে। শরিয়ত আইনকে চ্যালেঞ্জ করে সাফিয়া সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতেও এই মামলা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এদিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে জিজ্ঞাসা করল, মুসলিম পরিবারে জন্মানো কেউ কি সম্পত্তির বিষয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আইন অনুসরণ করতে পারেন? নাকি তাঁকে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনই মানতে হবে?
উল্লেখ্য, দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চাপ দিচ্ছে বিজেপি। ২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও জানিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর জন্য বিভিন্ন সময়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের যুক্তি, এই পদক্ষেপ ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনকারী। এটা ভারতের বৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলার সামিল।
