রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুর জেলার রাজনৈতিক পারদ চড়ল বুধবার দুপুরে। রায়গঞ্জ স্টেশনের দুই নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন ময়দানে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’য় (Parivartan Sankalp Sabha) জনজোয়ারে ভাসলেন বিজেপির রাজ্য নেতা সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। জনাকীর্ণ সেই সভা মঞ্চ থেকে রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী (Krishna Kalyani) থেকে শুরু করে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব—কাউকেই রেয়াত করলেন না তিনি।
কৃষ্ণ কল্যাণীকে তীব্র আক্রমণ:
সুকান্ত মজুমদার তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই বিঁধলেন স্থানীয় বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীকে। দলত্যাগ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “কলিযুগের রায়গঞ্জের কৃষ্ণ হল মীরজাফর। আমাদের ভোটে জিতে ওপারে (তৃণমূল) পালিয়ে গেছে।” তৃণমূলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, সাহস থাকলে আগামী নির্বাচনে কৃষ্ণ কল্যাণীকেই প্রার্থী করুক শাসক দল; বিজেপি ‘নাকখত’ দিয়ে তাঁকে হারাবে। এমনকি দুর্নীতির অভিযোগে বিধায়ককে জেল খাটানোর হুঁশিয়ারিও দেন সুকান্ত।
শাসক দলকে তোপ:
বিধায়কের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্যের সর্বত্র দুর্নীতি জেঁকে বসেছে এবং এর অবসান ঘটাতেই বিজেপির এই ‘পরিবর্তন সংকল্প’ যাত্রা। এদিনের সভায় সুকান্ত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল, অম্লান ভাদুড়ী এবং জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ সহ একঝাঁক নেতৃত্ব।
পাল্টা জবাব তৃণমূলের:
সুকান্ত মজুমদারের আক্রমণের জবাবে তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়ালা বলেন, “আমরা নাকখত দিয়ে বলছি যে আমরা বিজেপি প্রার্থীকে হারাবো।” অন্যদিকে, এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীকে ফোন করা হলে তিনি জানান যে, দলীয় অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকায় এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করবেন না।
এদিন বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ শুরু হওয়া এই সভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সুকান্ত মজুমদারের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ আগামী নির্বাচনের আগে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণকে যে আরও তপ্ত করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।
