উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের ঠিক আগে একটি ‘রুশ সাবমেরিন চুক্তি’র খবর জোরালোভাবে অস্বীকার করল ভারত সরকার। ব্লুমবার্গের একটি রিপোর্টে ২ বিলিয়ন ডলারের একটি “নতুন রুশ সাবমেরিন চুক্তি” চূড়ান্ত হওয়ার দাবি করা হয়েছিল, যা বৃহস্পতিবার ভারতের তরফে সরকারিভাবে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পিআইবি ফ্যাক্ট চেক (#PIBFactCheck) ট্যাগ করে সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনও নতুন চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। বরং, রিপোর্টে উল্লিখিত ‘সাবমেরিন অ্যারেঞ্জমেন্টটি’ হল ২০১৯ সালের মার্চ মাসে স্বাক্ষরিত একটি পুরনো লিজ চুক্তির অংশ। সেই চুক্তির অধীনে পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন একটি অ্যাটাক সাবমেরিন ১০ বছরের জন্য লিজ নেওয়া হবে। সূত্রের খবর, এই চুক্তিটি দীর্ঘ আলোচনার ফসল হলেও এর সরবরাহ সময়সীমা ইতিমধ্যেই বিলম্বিত হয়েছে। জাহাজটি ২০২৮ সালের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেবে বলে জানা গিয়েছে।
লিজ নেওয়া এই পারমাণবিক সাবমেরিনটি প্রধানত প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে এবং এটি সক্রিয় যুদ্ধে মোতায়েন করার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে বলে জানা গিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হল নৌবাহিনীর কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ভারতের নিজস্ব পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন কর্মসূচির অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করা।
পারমাণবিক সাবমেরিনগুলি ডিজেল-ইলেকট্রিক বোটের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। এগুলি দীর্ঘ সময় জলের নিচে থাকতে পারে, নীরবে কাজ করতে পারে এবং বৃহত্তর সামুদ্রিক অঞ্চলে দ্রুত চলাচল করতে পারে। বর্তমানে ভারতের কাছে ১৭টি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন রয়েছে। উল্লেখ্য, ভারত এর আগে ১০ বছরের জন্য লিজ নেওয়া একটি রাশিয়ান পারমাণবিক সাবমেরিন ২০২১ সালে ফেরত দিয়েছিল।
অপরদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের পরবর্তীতে পুতিন আজ (বৃহস্পতিবার) তাঁর প্রথম ভারত সফরে আসছেন। তাঁর কর্মসূচিতে রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। এই বৈঠকে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাশাপাশি দুদেশের মধ্যেকার বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
