নাগরাকাটাঃ উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতিকেকে দ্রুত জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণার দাবি জানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। মঙ্গলবার বিপর্যস্ত নাগরাকাটার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এসে তিনি এই দাবি তোলেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, “আর কত মানুষের মৃত্যু হলে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করবে সরকার, সেটা জানাক কেন্দ্র ও রাজ্য। রাজ্য দ্রুত সর্বদলীয় বৈঠক ডাকুক। ত্রাণে যাতে রাজনৈতিক রঙ না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। মৃতদের পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রয়োজন। সমস্ত ক্ষতি মূল্যায়ণ করে স্পেশাল প্যাকেজ এর ব্যবস্থা করা হোক। সরকারী সহযোগিতা ছাড়া এই দুর্যোগের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।”
এদিন শুভঙ্কর বলেন, “কংগ্রেস মনে করে উত্তরবঙ্গের প্রতি সেচ দপ্তরের বঞ্চনা বরাবরের। সেচ দপ্তরের গাফিলতি সহ নদী বাঁধ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এখানে দুর্যোগ মোকাবিলা টিম সবসময় প্রস্তুত রাখতে হবে। উত্তরকন্যার জন্য একজন অতিরিক্ত মুখ্য সচিব ও অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্র সচিবের পদ তৈরি করে নিয়োগ করা হোক। তাহলে বিপর্যয় মোকাবিলার কাজটি অনেক সহজ হবে।”
তিনি আরও বলেন, “লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি উত্তরবঙ্গের দুর্গতদের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সেকারণে দলগত একটি মনিটারিং কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।”
এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নাগরাকাটার ক্ষতিগ্রস্ত কূর্তিঝোড়া নদীর সেতু পরিদর্শন করেন। কথা বলেন সুভাষপল্লীর বন্যা দুর্গতদের সঙ্গে। অশোক মিত্র নামে এক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী তাঁকে জানান, “সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম। এখনও প্রশাসনের কেউ দেখতেও আসেনি।”
এদিন শুভঙ্কর লুকসান লাগোয়া ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে ক্ষতিগ্রস্থ কালীখোলা সেতুও দেখে আসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সহ সভাপতি নির্মল ঘোষ দস্তিদার, জেলা কংগ্রেস সভাপতি অমিত ভট্টাচার্য, জেলা কংগ্রেস এর কার্যকরী সভাপতি রাজা দে সরকার ও সাধারণ সম্পাদক সুকবীর সুব্বা, নাগরাকাটা ব্লক কংগ্রেস এর সভাপতি কাইলা সোনার প্রমুখ।
