উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আশঙ্কা ছিলই, এবার তা-ই বাস্তবে পরিণত হলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রত্যাঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের রণকৌশলগত ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিল ইরান। তেহরানের এই চরম সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে হাহাকার পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিপাকে পড়ার সম্ভাবনা ভারতেরও, কারণ সূত্রের খবর দেশের তেলের মজুত দিয়ে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ চলা সম্ভব!
কেন থমকে যেতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি?
হরমুজ প্রণালী মাত্র ৫০ কিলোমিটার চওড়া একটি জলপথ হলেও, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশ এই রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলো এই পথেই এশিয়া ও ইউরোপে তেল রপ্তানি করে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পথ দিয়ে আর কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
ভারতের ওপর প্রভাব: ৭৪ দিনের রসদ বাকি
সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারতের কৌশলগত তেলের রিজার্ভে বর্তমানে যা মজুত আছে, তাতে বড়জোর ৭৪ দিন অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো সম্ভব। গত কয়েকমাসে ভারত রাশিয়ার বদলে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছিল। তথ্যানুসারে, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের মোট তেল আমদানির ৫০ শতাংশই এসেছে এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এখন এই পথ বন্ধ হওয়ায় ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জগুলো হলো:
• জ্বালানির দাম: পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা।
• পরিবহন খরচ: জ্বালানির দাম বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
বিকল্পের খোঁজে দিল্লি: রাশিয়ার দিকেই কি ফিরতে হবে?
হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল আনার জন্য সৌদি আরবের লোহিত সাগর পাইপলাইন বা আবু ধাবি পাইপলাইন ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও তা অত্যন্ত সীমিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে কয়েকটি পথ খোলা রয়েছে:
1. রাশিয়া: পুনরায় রাশিয়ার থেকে তেল কেনা শুরু করা। তবে এতে আমেরিকার অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক এবং বাণিজ্য চুক্তিতে বাধার ঝুঁকি রয়েছে।
2. পশ্চিম আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা: নাইজেরিয়া, ব্রাজিল বা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি করা। কিন্তু দীর্ঘ দূরত্বের কারণে পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। বিকল্প শক্তি ও জ্বালানি জোগাড়ের পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই ছকা হয়েছে।
