উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধ এবার এক ভয়াবহ মোড় নিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামের পাল্টায় তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিল, যদি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরণের হামলা চালানো হয়, তবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) সম্পূর্ন সিল করে দেওয়া হবে।
ইরানের সামরিক কমান্ড ‘খতাম আল-আম্বিয়া’ (Khatam Al-Anbiya) রবিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে:”যদি আমেরিকা আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে আঘাত করার হুমকি কার্যকর করে… তবে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। যতক্ষণ না আমাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত পরিকাঠামো পুনর্নির্মিত হচ্ছে, ততক্ষণ এই পথ আর খুলবে না।”
ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও আমেরিকার যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি এই গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথটি খুলে না দেয়, তবে ওয়াশিংটন ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ‘এক নিমেষে ধূলিসাৎ’ (Obliterate) করে দেবে। ইরানের রবিবারের বার্তা মূলত ট্রাম্পের সেই হুমকিরই জবাব।
কেন কাঁপছে বিশ্ব বাজার?
হরমুজ প্রণালী কেবল একটি জলপথ নয়, এটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ধমনী।
- ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি: বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
- বর্তমান পরিস্থিতি: যুদ্ধের কারণে বর্তমানে স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশ জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারছে। শিপিং ডাটা সংস্থা ‘কেপলার’-এর মতে, ইরান ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
সংঘাতের চতুর্থ সপ্তাহ: কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ?
যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে ইরান কেবল প্রতিরক্ষা নয়, বরং পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারিও বাড়িয়ে দিয়েছে। তেহরানের দাবি, তারা প্রয়োজনে ইসরায়েলের জ্বালানি ও যোগাযোগ পরিকাঠামো এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর ওপরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে।
