এম আনওয়ারউল হক, মালদা: আন্তর্জাতিক নারী দিবসেই রাজ্যের চাকরির বাজারের এক কঠিন বাস্তব ছবি সামনে এল। উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি নিয়েও যখন উপযুক্ত কাজ মিলছে না, তখন পিওনের পদেই ভবিষ্যৎ খুঁজতে হচ্ছে তরুণ-তরুণীদের। পিএইচডি স্কলার থেকে এমএ, বিএড পাশ করা শিক্ষিত দুই তরুণীকেও তাই রবিবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) গ্রুপ–ডি’র পরীক্ষায় বসতে দেখা গিয়েছে।
রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি (PhD) করছেন ফাল্গুনী মজুমদার। তাঁর গবেষণা ভূগর্ভস্থ পানীয় জল নিয়ে। অন্যদিকে, কাজলী চক্রবর্তী সংস্কৃত নিয়ে স্নাতকোত্তর হওয়ার পর বিএড করেছেন। উচ্চশিক্ষিত হয়েও উপযুক্ত স্থায়ী চাকরির সুযোগ না মেলায় দুজনেই গ্রুপ–ডি বা পিওন পদের পরীক্ষায় বসেছেন। তাঁদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি, কোথাও উপযুক্ত চাকরির সুযোগের তেমন সম্ভাবনা চোখে পড়ছে না। ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই তাই বাধ্য হয়ে পিওন পদের জন্য আবেদন করেছিলেন। ফাল্গুনীর বাড়ি নদিয়ার রানাঘাটে হলেও কলকাতার শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। তাঁর স্বামী রেলের কর্মী হিসেবে শিয়ালদায় কর্মরত। তবে শ্বশুর মালদায় কর্মরত হওয়ায় সেই সূত্রে মালদা থেকেই পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করেছিলেন তিনি। ফাল্গুনী বলছেন, ‘সমাজে অনেকসময় রোজগার না থাকলে নারীদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। সেই বাস্তবতাও এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।’ কাজলীর বাড়ি মালদা জেলায়। অবিবাহিতা কাজলী বর্তমানে গেট ও নেট-এর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রবিবার পরীক্ষা শেষে দুই তরুণীর মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। তাঁদের দাবি, বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তরই দিতে পেরেছেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে (Worldwide Girls’s Day) তাঁরা জানালেন, কর্মজীবন শুরু করতে হলে পিওনের পদ থেকেও শুরু করতে তাঁদের আপত্তি নেই। তাঁদের কথায়, কোনও কাজই ছোট নয়। তবে উপযুক্ত কাজের সুযোগ না পেলে ছোট পদ থেকেও কাজ শুরু করা ভালো। কাজ থাকাটাই বড় কথা, সেটাই সম্মানের।
উচ্চশিক্ষিত তরুণীদের এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সংকটের কঠিন ছবি তুলে ধরছে, পাশাপাশি নারী দিবসের দিনই নারীদের সংগ্রাম, আত্মসম্মান এবং বাস্তবতার লড়াইয়ের কথাও সামনে আনছে। চাকরির সুযোগের অভাব আজ ডিগ্রিধারী বহু তরুণ-তরুণীকেই বাধ্য করছে নিম্নপদের চাকরির জন্য আবেদন করতে। পিএইচডি স্কলারের গ্রুপ–ডি পরীক্ষায় বসার ঘটনাই যেন তা নতুন করে সামনে নিয়ে এল।
