উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভারত মহাসাগরে দানা বাঁধছে নতুন উত্তেজনা। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমানকে নিজেদের মাটিতে নামার অনুমতি দিল না শ্রীলঙ্কা। শুক্রবার দেশটির পার্লামেন্টে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে (Anura Kumara Dissanayake) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট জানান, গত ৪ এবং ৮ মার্চ জিবুতিতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে আসা দুটি যুদ্ধবিমান মত্তলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Mattala Worldwide Airport) নামার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু কৌশলগত কারণে এবং দেশের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে শ্রীলঙ্কা সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে।
অস্ত্রবাহী বিমানের প্রবেশে ‘না’
২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে জানান, মার্কিন বিমানগুলো জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র (Anti-ship missiles) দ্বারা সজ্জিত ছিল। তিনি বলেন, “তারা আটটি অ্যান্টি-শিপ মিসাইল সহ দুটি যুদ্ধবিমান জিবুতি থেকে মত্তলায় আনতে চেয়েছিল। আমরা সরাসরি ‘না’ বলে দিয়েছি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে আমাদের ওপর অনেক চাপ রয়েছে, কিন্তু আমরা কোনো পক্ষ নেব না। আমরা আমাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
উল্লেখ্য, এই প্রত্যাখ্যানের ঘটনার ঠিক আগেই গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে একটি ভয়াবহ সামুদ্রিক দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, একটি মার্কিন সাবমেরিন ইরানি ফ্রিগেট ‘IRIS Dena’-কে টর্পেডো দিয়ে ডুবিয়ে দিয়েছে।
- হতাহতের খবর: এই ঘটনায় ৮৪ জন ইরানি নাবিক নিহত হয়েছেন।
- উদ্ধার কাজ: শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করেছে।
- পরবর্তী পদক্ষেপ: এরপর অপর একটি ইরানি জাহাজ ‘IRINS Bushehr’ কলম্বো বন্দরে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তাদের ত্রিনকোমালি বন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং ২০৪ জন নাবিককে সাময়িক ভিসা দিয়ে বিশেষ আবাসে রাখা হয়েছে।
কূটনৈতিক দড়ি টানাটানি
মার্কিন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সাথে বৈঠকের ঠিক একদিন পরেই প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে এই ঘোষণা করলেন। যদিও দুই দেশের মধ্যে মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবুও সামরিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে সুবিধা দিতে নারাজ কলম্বো।
কেন শ্রীলঙ্কার এই কঠোর অবস্থান?
বিশ্লেষকদের মতে, শ্রীলঙ্কা এখন এক কঠিন ভারসাম্য রক্ষার লড়াই চালাচ্ছে: ১. সার্বভৌমত্ব রক্ষা: কোনো পরাশক্তির সামরিক কর্মকাণ্ডের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হতে চায় না দ্বীপরাষ্ট্রটি। ২. অর্থনৈতিক ঝুঁকি: জ্বালানি সরবরাহ, পর্যটন এবং রেমিট্যান্স—শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির এই তিন স্তম্ভই মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল। ৩. আঞ্চলিক নিরাপত্তা: ভারত মহাসাগরে বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়লে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির আশঙ্কা করছে কলম্বো।
