উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ নিজের ডিউটি করতে গিয়ে নিজেই নিজের কাছে ‘অভিযুক্ত’ হলেন এক বিএলও (BLO) (বুথ লেভেল অফিসার)! ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে ব্যস্ত থাকাকালীন নিজের নামেই শুনানির নোটিশ (SIR Listening to Discover) হাতে পেলেন মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ (shamsherganj) ব্লকের শিক্ষক আবু ওবায়দা বিন জাররাহ। মঙ্গলবার এই ঘটনা সামনে আসতেই গোটা জেলায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এমন পদক্ষেপে কার্যত হতবাক প্রশাসনিক মহল।
ঘটনাটি কী?
আবু ওবায়দা বিন জাররাহ পেশায় একজন শিক্ষক। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি শিক্ষকতা করছেন এবং অভিজ্ঞ বিএলও হিসেবে সামসেরগঞ্জের চাচন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১১ নম্বর বুথের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। মঙ্গলবার সকালে যখন তিনি সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার তথ্য যাচাইয়ের কাজ করছেন, ঠিক তখনই বিডিও অফিস থেকে তাঁর নিজের নামেই একটি শুনানির নোটিশ জারি করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, বিএলও হিসেবে নিজের নামের সেই ‘শঙ্কাজনক’ নোটিশ নিজেকেই ধরিয়ে দেন তিনি।
হতাশ এবং বিস্মিত আবু ওবায়দা বলেন, “বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার সময় আমি সমস্ত বৈধ নথিপত্র জমা দিয়েছি। ২০০২ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত প্রতিটি ভোটার তালিকায় আমার নাম রয়েছে। সমস্ত প্রমাণ দেওয়ার পরেও কেন আমাকে শুনানিতে ডাকা হল, সেটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।” তিনি আরও জানান, নিয়ম রক্ষার্থে তিনি বিডিও অফিসে হাজিরা দেবেন ঠিকই, কিন্তু অভিজ্ঞ বিএলও হয়েও এই হেনস্থা তিনি মানতে পারছেন না।
আবু ওবায়দা একাই নন, তাঁর বুথের প্রায় ৩০০ জন ভোটারের কাছে এদিন একই ধরনের শুনানির নোটিশ পৌঁছেছে। এই তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ওসিকুল আলমও। ওসিকুলের দাবি, তাঁর বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের তালিকাতেই ছিল, সব নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁদের তলব করা হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
চাচন্ড এলাকার এই ‘গণ-শুনানি’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যেখানে খোদ বিএলও বা জনপ্রতিনিধিরা রেহাই পাচ্ছেন না, সেখানে সাধারণ মানুষের ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ‘ভুল’ বা ‘অদ্ভুত পদক্ষেপ’ নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা মেলেনি।
