রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচিতে (এসআইআর) প্রতিদিনই (SIR Listening to) শুনানিতে ডাক পাচ্ছেন অনেকে। এই সংখ্যাটা বাড়তে বাড়তে ১ কোটি ৩০ লক্ষ ছাপিয়ে গিয়েছে বলে তৃণমূল দাবি করেছে। এই পরিস্থিতিতে দলের অন্য সব কর্মসূচি স্থগিত করে এসআইআর-এর শুনানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিল তৃণমূল। রবিবার রাতে দলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের তরফে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় নেতৃত্বকে এ নিয়ে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সকাল থেকে বিকেল যতক্ষণ এসআইআর শিবির চলবে, ততক্ষণই দলের নেতা-নেত্রীদের সেখানে থাকতে হবে। দলের দার্জিলিং জেলা চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিব্রুয়ালও এই নির্দেশের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সোমবার থেকে এসআইআর-এর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলা হয়েছে।’
সামনেই বিধানসভা ভোট। তৃণমূল রাজ্যের মানুষের কাছে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে প্রতিটি জেলায় উন্নয়নের পাঁচালি এবং উন্নয়নের সংলাপ কর্মসূচি নিয়েছে। নেতা-নেত্রীরা সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে উন্নয়নের পাঁচালি ভোটারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। সেখানে গত ১৫ বছরের উন্নয়নের ফিরিস্তি দেওয়া রয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়নের সংলাপ নিয়ে মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনছেন আইপ্যাকের ঠিক করে দেওয়া নেতা-নেত্রীরা।
আবার এই সময়েই রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর কর্মসূচি চলছে। এই কর্মসূচিতে বর্তমানে এসআইআর-এর ফর্ম পূরণ করা যে সব ভোটারকে নিয়ে কমিশনের সন্দেহ রয়েছে, তাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। প্রথম দিকে শুনানিকেন্দ্রগুলিতে তৃণমূল শিবির করলেও ধীরে ধীরে তা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বরং এই সময়ে প্রত্যেক জেলাতেই দলীয় কর্মসূচিতে জোর দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, শুনানির নামে মানুষের হয়রানি নিত্যদিন বাড়ছে। প্রতিদিন রাজ্যজুড়ে প্রচুর মানুষ শুনানির নোটিশ পাচ্ছেন। ফলে তাঁদের হয়রানিও বাড়ছে। তৃণমূলের দাবি, রবিবার পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দলের উত্তরবঙ্গের এক শীর্ষস্থানীয় নেতার বক্তব্য, ‘রাজ্যে অনেক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।’
এরই মধ্যে রবিবার রাতে আইপ্যাকের তরফে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি বা চেয়ারম্যানকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠানো হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ১৯ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সমস্ত বিধানসভাভিত্তিক দলীয় কর্মসূচি স্থগিত করে এসআইআর-এর কাজে নজর দিতে হবে। এসআইআর সম্পর্কিত সমস্ত কাজকর্মে দলের সর্বস্তরের নেতা-নেত্রী এবং শাখা সংগঠনের কর্মকর্তাদেরও সোমবার থেকেই এক সপ্তাহের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
