জামালপুর: পরাধীন ভারতে জন্ম। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীন ভারতের প্রথম নির্বাচন—সবেরই সাক্ষী তিনি। অথচ ১০৪ বছর বয়সে এসে নিজের দেশের ভোটার তালিকাতেই ‘বিচারাধীন’ (Below Trial) হিসেবে চিহ্নিত হলেন পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) জামালপুরের বত্রিশবিঘা গ্রামের প্রবীণ শেখ ইব্রাহিম (Sheikh Ibrahim)। নির্বাচন কমিশনের এমন ‘অমানবিক’ আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে তাঁর পরিবার ও এলাকাবাসী।
জামালপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩৮ নম্বর বুথের ভোটার ইব্রাহিম সাহেব জানান, ১৩২৯ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে তাঁর জন্ম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে গান্ধীজির ভারত ছাড়ো আন্দোলন—সবই তাঁর স্মৃতিতে উজ্জ্বল। বার্ধক্যের কারণে এখন হাঁটতে পারেন না, কিন্তু নাগরিক হিসেবে প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন তিনি। অভিযোগ, রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজ শুরু হওয়ার পর ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র (Logical Discrepancy) কারণ দেখিয়ে গত ২৯ জানুয়ারি তাঁকে বিডিও অফিসে সশরীরে হাজির হওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়। ১০৪ বছরের বৃদ্ধকে নোটিশ দেওয়া নিয়ে শোরগোল পড়লে কমিশনের প্রতিনিধিরা তাঁর বাড়ি গিয়ে নথিপত্র যাচাই করে আসেন। কিন্তু সোমবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতেই দেখা যায়, তাঁর নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে রাখা হয়েছে।
মর্মাহত শেখ ইব্রাহিম আক্ষেপের সুরে বলেন, “১০৪ বছর বয়সেও বেঁচে থাকাটাই কি আমার অপরাধ? কমিশনের লোকজন আমায় নিয়ে ঠিক কী করতে চাইছে বুঝতে পারছি না।” তাঁর ছেলেরা একে দেশের একজন প্রবীণ নাগরিকের চরম অবমাননা বলে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত উপ-প্রধান সাহাবুদ্দিন মণ্ডল এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে সরব হয়েছেন। যদিও বিজেপি নেতা প্রধানচন্দ্র পালের দাবি, তথ্যগত কোনও অসঙ্গতি থাকায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই জুডিশিয়াল অফিসাররা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এক জন প্রবীণ নাগরিককে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের এই আইনি জটিলতা এখন জেলা রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
