উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে ‘চিঠি-যুদ্ধ’, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশন (EC)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠির পালটা দিয়ে কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, যা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।
সাম্প্রতিককালে কয়েকজন বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার)-র অসুস্থতা ও আত্মহত্যার ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে চিঠি লেখেন। তাঁর মূল অভিযোগ, কর্তব্যরত আধিকারিক ও সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিএলও-দের উপর ‘জবরদস্তি’ করা হচ্ছে এবং তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি চলতি এসআইআর (Particular Intensive Revision) প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করারও আর্জি জানান। জলপাইগুড়ির মালবাজারে এক বিএলও-র আত্মহত্যার ঘটনা এবং কোন্নগরে এসআইআর-এর ফর্ম বিলি করতে গিয়ে আরেক বিএলওর অসুস্থ হওয়ার পরই এই চিঠি দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির পরই কড়া ভাষায় পালটা চিঠি লিখেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর চিঠির সুর ছিল আরও আক্রমণাত্মক। শুভেন্দু স্পষ্ট দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগগুলি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চিঠি আদতে কোনও গঠনমূলক কারণে নয়, বরং রাজ্যের অবৈধ ভোটব্যাঙ্ককে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা। শুভেন্দু অভিযোগ করেন, শাসকদল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটের স্বার্থে সুরক্ষা দিয়ে আসছে। তিনি তাঁর চিঠিতে এও উল্লেখ করেছেন যে, এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে সীমান্ত এলাকায়, বিশেষত হাকিমপুরে বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশিদের ঘর ছাড়ার হিড়িক বেড়েছে।শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচন কমিশনকে এও জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপ কমিশনের উপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসে আঘাত হানছে। এমনকি, তিনি মুখ্যমন্ত্রী কর্তৃক বিএলও-দের ‘হুমকি’ দেওয়ার ঘটনারও উল্লেখ করেছেন।
বলাই বাহুল্য, এই দুই হেভিওয়েট নেতার চিঠি নির্বাচন কমিশনকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। একদিকে রয়েছে তৃণমূলের অভিযোগ—এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিএলও-দের উপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি করে মানবিক বিপর্যয় তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতার হুঁশিয়ারি—যদি এই প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়, তবে তা হবে গণতন্ত্রকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ভোটারদের সুরক্ষা দেওয়ার সামিল।
নির্বাচন কমিশন এখন কোন পথে হাঁটে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। এই ‘চিঠি-যুদ্ধ’ পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতির বিতর্ককে আরও একবার জাতীয় মঞ্চে পৌঁছে দিল, যেখানে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা বনাম রাজনৈতিক স্বার্থের সংঘাত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
