উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার চাপ সহ্য করতে না পেরে মাঝগঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক বিএলও (BLO)। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ শ্রীরামপুর ও ব্যারাকপুরের মাঝে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ওই শিক্ষকের নাম মহম্মদ কায়ামুদ্দিন। তিনি কাঁচরাপাড়ার একটি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং বর্তমানে বিএলও হিসেবে কর্মরত।
শনিবার সকালে শ্রীরামপুর ফেরিঘাট থেকে ব্যারাকপুরগামী একটি যাত্রীবোঝাই লঞ্চে উঠেছিলেন কায়ামুদ্দিন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, লঞ্চটি যখন মাঝগঙ্গায় পৌঁছায়, তখন নিজের ব্যাগ ও মোবাইল সিটে রেখেই গঙ্গায় ঝাঁপ দেন তিনি। লঞ্চের কর্মীরা তৎক্ষণাৎ তৎপর হয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ (Police) এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
উদ্ধারের পর কায়ামুদ্দিন জানান, তাঁর বুথে ১,২৪৫ জন ভোটার রয়েছেন। এসআইআর-এর কাজে নথি ডিজিটালাইজেশন নিয়ে তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সড়গড় না হওয়ায় কাজে সমস্যা হচ্ছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় চরম অবসাদে এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীরামপুর শহর তৃণমূল সভাপতি সন্তোষকুমার সিংহ ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের তাড়াহুড়ো ও অতিরিক্ত চাপের কারণেই বিএলও-রা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করে বলেন, এসআইআর-এর মাধ্যমে রাজ্য দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় কমিশনের অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
