প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার জেলায় এসআইআর-এর (SIR) এনুমারেশন ফর্ম পূরণে ভাষাগত একটা সমস্যা তো আগে থেকেই ছিল। একেবারে শেষলগ্নে এসে সেই সমস্যায় জেরবার হতে হচ্ছে বিএলও-দের (BLO)। চা বলয়ে হিন্দিভাষীদের মধ্যে বাংলায় ফর্ম ফিলআপ নিয়ে তো সমস্যা রয়েছেই। সেইসঙ্গে আলিপুরদুয়ার জংশন সংলগ্ন রেল কলোনি এলাকাতেও একই সমস্যা। বলছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও-রা। অনেকেরই ফর্ম ফিলআপ করে দিতে হচ্ছে বিএলও-দেরই। তাতে সময় লাগছে বেশি। আর ডেডলাইন ঘনিয়ে আসায় এমনিতেই বিএলও-রা চাপে রয়েছেন, ফর্ম ফিলআপের বাড়তি চাপে তাঁরা নাজেহাল।
এই বিষয়ে প্রসেনজিৎ রায় নামে এক বিএলও’র কথায়, ‘অন্যান্য জায়গার তুলনায় রেল কলোনি এলাকায় সমস্যা বেশি। বিশেষ করে রেলকর্মীদের অনেকেই কেরল, তামিলনাডু সহ অন্যান্য রাজ্যের মূল বাসিন্দা। চাকরিসূত্রে তাঁরা জংশনের রেল কলোনিতে বসবাস করছেন। তাঁদের পক্ষে বাংলায় লেখা ফর্ম বোঝা সম্ভব নয়।’ বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতে ফর্ম পূরণের সুবিধা থাকলে তেমন সমস্যা হত না, মনে করছেন প্রসেনজিৎ। কেবল যে ফর্ম বুঝতে সমস্যা হচ্ছে তা নয়। সেইসঙ্গে নামের বানান লিখতে গিয়ে ভুল হয়ে যাচ্ছে।
আরেক বিএলও’র কথায়, ‘ফর্ম বিলি করার পর অনেকে বাড়ি চলে আসছেন। এমনকি বারবার ফোন করে ফর্মে কী লেখা আছে তা জানতে চাইছেন। বোঝালেও বুঝতে চাইছেন না। অনেক সময় নিজের হাতেই ফর্ম পূরণ করে দিতে হচ্ছে।’
রেল কলোনি ছাড়াও কালচিনি, কুমারগ্রাম ও বীরপাড়ার মতো চা বাগান অধ্যুষিত এলাকায় হিন্দি ও সাদরি ভাষাভাষী লোকজন বেশি। তাঁরাও বাংলায় লেখা ফর্ম পূরণ করতে পারছেন না। ফর্ম পূরণের জন্য তাঁদের অন্যের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। অনেকে আবার লোকজনকে টাকা দিয়ে ফর্ম পূরণ করাচ্ছেন।
জেলা প্রশাসন অবশ্য বিএলও-দের পাশাপাশি স্কুল ও কলেজের পড়ুয়াদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ফর্ম পূরণের সহযোগিতার কাজে লাগিয়েছে। এবিষয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা শাসক আর বিমলা বলেন, ‘বিষয়টি প্রথম থেকেই জেলা প্রশাসনের নজরে ছিল। তারজন্য বিএলও-দের পাশাপাশি চা বাগান এলাকায় পড়ুয়াদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে ফর্ম পূরণে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজে লাগানো হয়। সেই স্বেচ্ছাসেবক পড়ুয়াদের পরবর্তীতে পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
