উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) (SIR)-এর ‘আতঙ্ক’-এ ফের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। দু’ক্ষেত্রেই পরিবারের দাবি, ‘এসআইআর আতঙ্কে’ মৃত্যু হয়েছে তাঁদের পরিজনদের।
এদিন প্রথম ঘটনা ঘটে দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Pargana) কুলপি বিধানসভার ঢোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের কালীচরণপুর গ্রামে। মৃতের নাম, শাহাবুদ্দিন পাইক (৪৫)। পাশাপাশি অপর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সাঁইথিয়া (Sainthia) পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে। মৃতের নাম, বিমান প্রামাণিক।
প্রথম ঘটনা কুলপির। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের ও স্ত্রীর নাম না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চিন্তিত ছিলেন। স্ত্রীর নথিতে গরমিল ধরা পড়ায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল হৃদরোগে আক্রান্ত হন শাহাবুদ্দিন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে স্থানান্তর করা হয় ডায়মন্ড হারবার গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানেই সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়। জানা গিয়েছে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে হাসপাতালে পৌঁছোন কুলপি বিধানসভার বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদার ও মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার।
অন্যদিকে, এসআইআর ‘আতঙ্ক’-এ অপর মৃত্যুর অভিযোগ উঠল সাঁইথিয়ায়। পরিবারের দাবি, ওই ব্যক্তি গত তিনদিন ধরে মানসিক উদ্বেগে ভুগছিলেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর ও তাঁর দিদি মল্লিকা পালের পদবি ভুল করে ‘প্রামাণিক’-এর বদলে ‘পাল’ লেখা হয়েছে- এই নিয়েই আতঙ্কিত ছিলেন তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে ওই ব্যক্তি স্থানীয় কাউন্সিলার ও এলাকার বিএলও-র সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে আশ্বাস পেলেও উদ্বেগ কাটেনি। আচমকা বুকে ব্যথা অনুভব করায় দ্রুত তাঁকে সাঁইথিয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের ভাই বিধান প্রামাণিকের বক্তব্য, এসআইআর আতঙ্কেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর দাদার। প্রসঙ্গত, এর আগেও রাজ্যে এসআইআর ‘আতঙ্ক’-এ একাধিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সমস্ত ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
