শিলিগুড়ি: রক্ষকই খোদ আক্রান্ত! যাদের হাতে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার ভার, সেই পুলিশকেই (Siliguri Police Assault Case) উৎসবের মরসুমের মাঝেই মদ্যপ অবস্থায় বেল্ট দিয়ে বেধড়ক পেটাল ৪ যুবক! বুধবার রাতে শহরের ব্যস্ততম জংশন এলাকায় কর্তব্যরত এক ট্রাফিক কনস্টেবলকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শিলিগুড়ি পুলিশ মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে দুটি বাইকে করে চার যুবক মদ্যপ অবস্থায় জংশন এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। তারা রাস্তার ঠিক মাঝখানে বাইক দুটি পার্ক করে দাঁড়িয়ে অশালীন আচরণ শুরু করে, যার ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। সেই সময় সেখানে দায়িত্বরত এক ট্রাফিক কনস্টেবল এবং একজন সিভিক ভলান্টিয়ার তাদের বাধা দেন এবং রাস্তা থেকে বাইক সরিয়ে নিতে বলেন। কিন্তু বাইক সরানোর বদলে ওই যুবকরা পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে।
বচসা চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ওই চার যুবক হঠাৎই নিজেদের কোমরের বেল্ট খুলে ওই ট্রাফিক কনস্টেবলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। জনসমক্ষেই চলতে থাকে এলোপাথাড়ি মারধর। বেল্টের বকলসের আঘাতে ওই পুলিশকর্মীর মাথা ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সিভিক ভলান্টিয়ার বাধা দিতে গেলে তাঁকেও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। প্রধাননগর থানা থেকে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত কনস্টেবলকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তৎক্ষণাৎ তদন্তে নামে প্রধাননগর থানার পুলিশ (Pradhan Nagar Police)। জংশন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং বাইকের নম্বর ট্র্যাক করে রাতেই চার অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। অভিযুক্তদের নাম অজয় মাহাতো, অর্জুন মাহাতো ও বিশাল দাস—যারা শিলিগুড়ি (Siliguri Information) পুরনিগমের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। চতুর্থ অভিযুক্ত রামদেও মাহাতো উত্তর দিনাজপুরের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার চারজনকেই শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের জামিনের আবেদন নাকচ করে ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশের ওপর এই ধরনের হামলার ঘটনায় শহরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
