শিলিগুড়ি: শহর শিলিগুড়িতে এটিএম জালিয়াতি (Siliguri ATM Fraud) চক্রের তদন্তে নেমে চক্ষুচড়কগাছ পুলিশকর্তাদের। বিহারের চম্পারণ থেকে ধৃত চার তরুণের মোবাইল খতিয়ে দেখতেই উঠে এল সরাসরি পাকিস্তান যোগ (Pakistan Connection)। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক পাকিস্তানি নম্বরের হদিস মিলেছে, যেখান থেকে নির্দেশ আসত টাকা লেনদেনের।
কীভাবে চলত এই কারবার?
তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গরিব মানুষদের টার্গেট করে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভাড়ায় নিত। সেই সব অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাকিস্তান থেকে টাকা পাঠানো হত। এরপর ধৃত রিজওয়ান আলম, আজাদ আলমরা এটিএম কার্ড ও পিন ব্যবহার করে সেই টাকা তুলে অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দিত। শিলিগুড়ির এক বাসিন্দার অ্যাকাউন্টেও এভাবেই পাকিস্তানের টাকা ঢোকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
সন্ত্রাসবাদী নাশকতার ছক?
শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা জানিয়েছেন, ধৃতদের মোবাইল থেকে পাকিস্তানি নম্বর মেলার বিষয়টি নিশ্চিত। পাকিস্তান থেকে টাকা আসার অর্থই হল কোনো বড়সড় নাশকতামূলক পরিকল্পনার সম্ভাবনা। ইতিমধ্যেই স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF) ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং পুরো তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে সাইবার ক্রাইম থানার (Cyber Crime Siliguri) হাতে। শিলিগুড়িতে এই চক্রের আর কোন কোন সদস্য সক্রিয়, তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়ি থানা এলাকার একটি হোটেল থেকে এটিএম জালিয়াতির অভিযোগে চম্পারণের বাসিন্দা রিজওয়ান আলম, আজাদ আলম, মহম্মদ ইমরান ও শের মহম্মদ গ্রেপ্তার হয়। প্রথমদিকে, পুলিশ ভেবেছিল ধৃতরা এটিএম জালিয়াতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। যদিও বাজেয়াপ্ত করা মোবাইল পরীক্ষা করতেই জুড়ল পাকিস্তানের নাম।
