শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি: মনের মানুষকে খুঁজতে রাতের শহরে রাজপথে হুলুস্থুল বাধিয়ে দিলেন এক তরুণী। পরনে চকোলেট রঙের জামা। চোখে চশমা। হাতে বোতল। কাঁধে ঝুলছে সাইডব্যাগ। এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছেন। একটাই প্রশ্ন আওড়াচ্ছেন বারবার, ‘বয়ফ্রেন্ড কোথায় গেল আমার?’
শনিবার ঘটনাটি ঘটে সেবক রোডের একটি রেস্তোরাঁর সামনে (Siliguri)। নিজের প্রশ্নের সদুত্তর না পেয়ে মেজাজ হারিয়ে সেই তরুণের গাড়ির পাশাপাশি রেস্তোরাঁর কাচ ভাঙলেন তিনি। তরুণীকে ঘিরে যখন ভিড় জমতে শুরু করেছে রাস্তায়, তখন রেস্তোরাঁর ওপরেই থাকা একটি পাবে বন্ধুদের সঙ্গে খানাপিনায় মজে ছিলেন তাঁর প্রেমিক। পরে বিষয়টি টের পেলেও নীচে নামেননি আর। বরং ওপর থেকে পুরো ঘটনাটি দেখেছেন, থুড়ি উপভোগ করেছেন।
এদিকে, ঝামেলার খবর পেয়ে পানিট্যাঙ্কি ফাঁড়ি থেকে পুরুষ পুলিশকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। অভিযোগ, তাঁদেরও হেনস্তা করেন মেয়েটি। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান তাঁরা। এরপর প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট পর সেখানে পৌঁছায় মহিলা পুলিশ। তারা ওই তরুণীকে আটক করে নিয়ে যায়। ততক্ষণে প্রেমিকের খোঁজে হইচই ফেলে দিয়েছেন তিনি। পুলিশের দাবি, ওই তরুণী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
তরুণীর ‘বয়ফ্রেন্ড’ এদিন রাত সাড়ে নয়টা নাগাদ সেবক রোডের একটি রেস্তোরাঁর সামনে গাড়ি পার্ক করে ওপরের পাবে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আসেন তরুণী। খোঁজ শুরু করেন প্রেমিকের। প্রথমে রেস্তোরাঁয় ঢুকে চিৎকার-চ্যাঁচামেচি শুরু করলে সেখানকার কর্মীরা তাঁকে বাইরে বেরিয়ে যেতে বলেন। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। রাস্তায় পড়ে থাকা একটি পাথর তুলে ঢিল মেরে রেস্তোরাঁটির কাচ ভেঙে দেন। এরপর তিনি চড়াও হন দাঁড় করিয়ে রাখা গাড়ির ওপর। একের পর এক ঢিল ছুড়তে থাকেন। ভেঙে যায় সামনের ও পেছনের কাচ।
তরুণীর কীর্তিকলাপ দেখে পথচলতি মানুষ দাঁড়িয়ে পড়ে। এদিকে, হাতের সামনে যাঁকে পেয়েছেন, তাঁর দিকে তেড়ে যাচ্ছিলেন মেয়েটি। রাস্তায় গড়াগড়ি পর্যন্ত খেতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। বারবার অভিযোগ তুলছিলেন, ‘আমার বয়ফ্রেন্ডকে তোমরাই কোথাও সরিয়ে দিয়েছো।’ খবর যায় পানিট্যাঙ্কি ফাঁড়িতে।
পথচলতি ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস, তরুণ রায়রা ভেবেছিলেন, এবারে হয়তো মেয়েটিকে বাগে আনা যাবে। সেই আশায় জল ঢেলে এক পুলিশকর্মীর জামা ধরে টানাটানি শুরু করেন তরুণী। এবারে তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁর প্রেমিককে পুলিশই ধরে নিয়ে গিয়েছে। কেন করেছে, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা বেধে যায়। পুরুষ পুলিশকর্মীরা রণে ভঙ্গ দিয়ে গাড়িতে উঠে ফিরে যান। ‘বয়ফ্রেন্ড’কে না পেয়ে তরুণী এরপর গাড়ির পথ আটকাতে শুরু করেন। শেষপর্যন্ত মহিলা পুলিশকর্মীরা এসে তাঁকে আটক করে ফাঁড়িতে আনেন। এরপরই পাব থেকে নেমে আসেন সেই প্রেমিক। তড়িঘড়ি এলাকা ছাড়েন। কেন এতকিছু দেখেও আগে নীচে নামেননি, তার সদুত্তর অবশ্য দিতে পারেননি।
রাত দশটার পর মহিলা পুলিশকর্মীরা কার্যত উধাও হয়ে যান শহরের রাস্তা থেকে। অভিযোগ, এই কারণে পুরুষ পুলিশকর্মীদের বেকায়দায় পড়তে হয় বহুক্ষেত্রে। বিষয়টি নিয়ে উত্তরবঙ্গ সংবাদে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এদিনের ঘটনা যেন ফের সেই সমস্যায় আলো ফেলল।
