প্রিয়দর্শিনী বিশ্বাস, শিলিগুড়ি: ক্রমবর্ধমান শিলিগুড়ি (Siliguri) শহরে ব্যস্ততাই এখন নিত্যসঙ্গী। এই ব্যস্ততায় একসময় ঘিরে ধরে ক্লান্তি। তখন প্রয়োজন হয় একটু বিশ্রামের। দু’দণ্ড জিরিয়ে না নিলে শরীর চালানো মুশকিল হয়ে ওঠে। তবে চাইলেই কি এ শহরে চলতে চলতে জিরিয়ে নেওয়ার জায়গা পাবেন? সেই জায়গা খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। প্রতীক্ষালয়গুলোও এখন দখল হয়ে যাচ্ছে। যে যেভাবে পারছে সেভাবে দখল করে নিচ্ছে। তাহলে মানুষ একটু বিশ্রামের জন্য যাবে কোথায়? এ শহরে কায়িক পরিশ্রম করে, দিনভর রিকশা টেনে, ভ্যান টেনে, পিঠে ব্যাগ টেনে দিনগুজরান করেন তাঁরা। পরিশ্রান্ত হলে গাছের নীচে আশ্রয় খোঁজেন। যেখানে সূর্যের তেজ থেকে একটু নিস্তার মিলবে। পার্কিং জোনে গিয়ে বাহন দাঁড় করালে তো ফি দিতে হবে। তাহলে কী উপায়?
ভেবেচিন্তে ভ্যানরিকশাচালকরা সেবক রোডে গুরদোয়ারার সামনে দু’পাশের রাস্তার মাঝে থাকা লোহার রেলিংয়ে বাঁশ বেঁধে তৈরি করেছেন বসার জায়গা। সেখানে কখনও পা তুলে বসে দিব্যি আরাম করেন তাঁরা, আবার কখনও পা ঝুলিয়ে বসে গল্প করেন। শুধু ওই দলের সদস্যরাই নন, বরং দেখা গেল ওই রাস্তার অনেক নিত্যযাত্রীই মাঝেমধ্যে বসে জিরিয়ে নিচ্ছেন ‘মাচা’য়। বলরাম, বুলাই, প্রবীররা বছরখানেক আগে নিজেদের হাতে তৈরি করেছেন স্বাচ্ছন্দ্যে বসার এই জায়গাটি।
টিউমলপাড়ার বলরাম গুপ্তা বলছিলেন, ‘আমি ভ্যান চালাই। দিনভর গাড়ি টানাটানি করে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। তাই বলে আধঘণ্টা-একঘণ্টার জন্য বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম করা সম্ভব নয়। আমার মতো আরও অনেকের এই সমস্যা হচ্ছিল। এখানে আশপাশের দোকান থেকে আমরা অনেক কাজ পাই। সেই দোকানগুলোর আশপাশে ভ্যানরিকশা রেখে এখানে মাঝেমধ্যে বসে আমরা একটু আরাম করি।’ তাঁর কথায়, ‘এই ব্যস্ত রাস্তায় অন্য কোথাও বসার জায়গাটা তৈরি করা সম্ভব ছিল না। তাই এখানে বানিয়েছি। আর এখানে গাছ রয়েছে তাই আমরা গাছের পুরো ছায়াটা পাই।’
সামনের রাস্তা থেকে হেঁটে বেরিয়ে এসে রাস্তা পার করে বসার জায়গাটার ওপর উঠে বসে পড়লেন দিলীপ সাহানি। গল্প জুড়ে দিলেন বলরামের সঙ্গে। দিলীপ বলেন, ‘হাঁপিয়ে গিয়েছি, একটু জিরিয়ে নিই।’ দিলীপের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তিনি দোকানে দোকানে পণ্য ডেলিভারি করেন। সকাল থেকে কাজ করে হাঁপিয়ে ওঠার পর এখানে জিরোতে এসেছেন।
দিলীপ আরও বলেন, ‘আমাদের বাইরে বাইরেই কাজ থাকে। শহরে তো একটু বিশ্রামের কোনও জায়গা নেই। তাই এদিকটায় কাজ থাকলে আমার কাছে এটাই ভরসা।’
তবে এই ভরসার জায়গাটা কতখানি বিপন্মুক্ত সেটা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। বিশ্রামের জন্য এভাবে ব্যস্ত রাস্তার মাঝে গাছে বাঁশ বেঁধে ওঁরা জায়গা তো বানিয়ে নিয়েছেন, তবে তা খুলে পড়লে বিপদ ঘটতে পারে।
ওই রাস্তার পাশেই থাকা এক ব্যবসায়ী সুমিত মিত্তাল বলছিলেন, ‘‘এই রোদে ওরা যাবেই বা কোথায়। পালা করে ওরা এসে এখানে বসে বিশ্রাম নেয়। বিষয়টা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু ওরা বলে যে ‘কিছু হবে না’।’’
