মিঠুন ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি: চার্বাক দর্শনে একটি প্রচলিত প্রবাদ হল ‘ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ, যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ।’ যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, ঋণ করে হলেও ঘি খাও, যত দিন বাঁচো সুখে বাঁচো। আর এই প্রবাদেরই বাস্তব রূপদান করতে দেখা গেল শিলিগুড়ির বাড়িভাসার বাসিন্দা আলো সাহাকে। তবে এক্ষেত্রে ঋণ নয়, চুরির গয়না বিক্রির টাকায় আয়োজন করা হয়েছিল ভূরিভোজের। সোনার দোকানের গয়না চুরি করে নাতির জন্মদিনে পড়শিদের নিয়ে এলাহি খানাপিনার আয়োজন করেছিলেন আলো। কিন্তু মাঝরাতে সেই অনুষ্ঠানে বাগড়া দিল পুলিশ। আর অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে সোজা শ্রীঘরে জায়গা হল আলোর।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কোচবিহারের দিনহাটা থানার পুলিশ এসে পৌঁছায় এনজেপি থানায়। হেপাজতে থাকা এক সোনা চোরকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযানে নামে দিনহাটা ও এনজেপি থানার পুলিশ। অভিযানে নেমে বাড়িভাসা এলাকার আলোর বাড়িতে পৌঁছায় পুলিশের দলটি। অনুষ্ঠান বাড়িতে হঠাৎ পুলিশ দেখে হতচকিত হয়ে যান নিমন্ত্রিতরাও। অনুষ্ঠান বাড়িতেই আলোকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। এরপর তাঁকে আটক করে নিয়ে আসা হয় এনজেপি থানায়। শুক্রবার সকালে আলোকে গ্রেপ্তার করে দিনহাটা নিয়ে যায় পুলিশ।
কয়েকদিন আগে দিনহাটা শহরে লাগাতার বেশ কয়েকটি সোনার দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। একইভাবে গত ৮ জানুয়ারি শহরের একটি দোকান থেকে সোনা চুরি যায়। বৃহস্পতিবার সকালে দিনহাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন দোকান মালিক। তদন্তে নেমে পুলিশ লক্ষ্মী বর্মন ওরফে টুলুকে বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেপ্তার করে। টুলুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই কাণ্ডে জড়িত অপর শাগরেদ আলোর খোঁজ মেলে। কোচবিহার জেলায় রয়েছে টুলুর বাপের বাড়ি। সেখান থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার চুরির সোনা উদ্ধার হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। শুক্রবার টুলুকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক চারদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও আলোকে এদিন আদালতে তোলা হয়নি বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।
দিনহাটার এসডিপিও ধীমান মিত্র বলেন, ‘৮ জানুয়ারি দিনহাটা শহরের একটি দোকান থেকে সোনার গয়না চুরি হয়। কয়েকদিন পর বিষয়টি নজরে আসে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করছে।’
