শিলিগুড়ি: রবিবার ছুটির দিনে বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়াই কাল হল। ফুলবাড়ির ক্যানেল রোডের নওয়াপাড়া এলাকায় পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন শিলিগুড়ির দেশবন্ধুপাড়ার বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী তরুণী সুস্মিতা রায় চৌধুরী। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মেধাবী প্রাক্তনী যখন নিজের কেরিয়ার গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এক লহমায় সব শেষ হয়ে গেল।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সুস্মিতা তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে বাইকে চেপে ফুলবাড়িতে এক বান্ধবীর বাড়িতে যাচ্ছিলেন। নওয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে একটি ডাম্পারের পেছনের অংশে বাইকটির ধাক্কা লাগে। বাইকের পেছনে বসে থাকা সুস্মিতা ছিটকে গিয়ে রাস্তার ধারের লোহার ব্যারিকেডের ওপর আছড়ে পড়েন। তাঁর সঙ্গী বন্ধুটি সেভাবে চোট না পেলেও, সুস্মিতার আঘাত ছিল গুরুতর।
দুর্ঘটনার পরই বন্ধুটি দ্রুত একটি টোটো জোগাড় করে সুস্মিতাকে ফুলবাড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই কিছুক্ষণ পর তাঁর মৃত্যু হয়। সুস্মিতার আত্মীয় চঞ্চল গুহ জানান, ‘লোহার ব্যারেকেডে পরে যাওয়ায় তাঁর বুকের বাঁ দিকে গুরুত্বর চোট লাগে। যার থেকে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। শরীর থেকে সেভাবে রক্তক্ষরণ হয়নি।’
শোকাতুর দেশবন্ধুপাড়া
শিলিগুড়ির ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের লেলিন সরণীর বাসিন্দা সৌমপ্রসাদ রায় চৌধুরীর একমাত্র সন্তান ছিলেন সুস্মিতা। সৌমপ্রসাদবাবুর কোর্ট মোড়ে একটি দোকান রয়েছে। পরিবার সূত্রে খবর, সুস্মিতার মা শিপ্রা দেবী দিন ১৫ আগে পড়ে গিয়ে কোমর ভেঙে শয্যাশায়ী। একমাত্র মেয়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা পরিবার এখন দিশেহারা। এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। খবর পেয়ে এনজেপি (NJP) থানার পুলিশ ঘটনাস্থল ও নার্সিংহোমে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতিতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের পর দেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
