সানি সরকার, শিলিগুড়ি: সকালের রোদে যে আশার আলো দেখা গিয়েছিল, সন্ধে হওয়ার আগেই তা আঁধারে পরিণত। নতুন দফার বৃষ্টি জল ঢালল প্রশাসনিক তত্পরতায়। ফলে লাচেন ও লাচুংয়ে আটকে পড়া পর্যটকরা কবে গ্যাংটকে ফিরতে পারবেন, সেই নিশ্চয়তা কিছুতেই মিলছে না। বরং নতুন বিপদ ডেকে এনেছে বৃষ্টি এবং কাদা ধস। আটকে পড়া প্রায় দেড় হাজার পর্যটকের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর রেখে মংগন জেলা প্রশাসনের তরফে সবরকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। নানাভাবে সাহায্য করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরাও। অন্যদিকে, চুংথাংয়ে আটকে পড়া পর্যটকদের শুক্রবার সাংকালান দিয়ে মংগনে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁদের গ্যাংটকে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। উত্তর সিকিমে পর্যটক প্রবেশে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মংগনের জেলা শাসক অনন্ত জৈন বলেন, ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বেশ কয়েকটি রাস্তায় ধস নেমেছে। কিছু জায়গায় কাদা ধসে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়েও পড়েছে। এমন পরিস্থিতির জন্য লাচেন ও লাচুংয়ে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের এখনই উদ্ধার সম্ভব হচ্ছে না। তাঁদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর রাখা হয়েছে।’ বৃষ্টি কমলে ধসের মাটি সরানো এবং রাস্তা মেরামতির কাজে হাত দেওয়া হবে বলে জানান মংগনের পুলিশ সুপার সোনম দেতচু ভুটিয়া। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পারমিট ইস্যু করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।
চুংথাংয়ে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের ভাগ্য কিছুটা ফিরলেও, লাচেন এবং লাচুংয়ে আটকে থাকা পর্যটকরা সেই অন্ধকারেই। কবে ফিরতে পারবেন গ্যাংটকে, শুক্রবারও স্পষ্ট হয়নি। বৃহস্পতিবার প্রবল বর্ষণের জেরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে উত্তর সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা। লাচেন-চুংথাং সড়কের মুন্সি থাংয়ে বড় ধরনের ধস পড়ার পাশাপাশি রাস্তা ধসে যাওয়ায় মংগনের সঙ্গে লাচেনের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। লাচুং-চুংথাংয়ের লামাতে ধস পড়ে একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় লাচেনে আটকে পড়ে প্রায় ৬০০ পর্যটক এবং একশো গাড়ি। লাচুংয়ে আটকে রয়েছে প্রায় ৮০০ পর্যটকের পাশাপাশি দেড়শো গাড়ি।
এদিকে, চুংথাংয়ে আটকে থাকা পর্যটকদের সকালে সাংকালানের নবনির্মিত বেইলি ব্রিজ দিয়ে মংগনে পৌঁছে দেওয়া হয়। পর্যটকদের উদ্ধার প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য সাংকালানে উপস্থিত ছিলেন খোদ মংগনের জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার। বৃহস্পতিবারই উদ্বোধন হয়েছে বেইলি ব্রিজটির।
শুধু লাচেন এবং লাচুং নয়, উত্তর সিকিমের একাধিক পর্যটনকেন্দ্র বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কয়েকটি জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হওয়ায়, নতুন করে যেমন কয়েকটি জায়গায় ধস নেমেছে, তেমনই কাদা ধস পড়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে একাধিক রাস্তা। শুক্রবার প্রবল বর্ষণ না হলেও, পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় প্রশাসন রাস্তা মেরামতি এবং লাচেন এবং লাচুং থেকে পর্যটকদের উদ্ধার করতে পারেনি। এরই মধ্যে আবহাওয়া দপ্তরের তরফে উত্তর সিকিমে শনিবার থেকে টানা দু’দিন ভারী বর্ষণের কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফলে পর্যটক উদ্ধার সিকিম (Sikkim) প্রশাসনের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
