ধূপগুড়ি: দলীয় বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়কে (MLA Nirmal Chandra Roy) ‘অপদার্থ’ বলা এবং অশালীন মন্তব্য করার দায়ে জেলা তৃণমূলের পক্ষ থেকে শোকজ (Showcause Controversy) করা হয়েছিল দলের দুই প্রভাবশালী নেতা অরূপ দে এবং তাপস করকে। কিন্তু শোকজের জবাব দেওয়া তো দূরের কথা, তাঁরা দাবি করেছেন কোনও চিঠিই পাননি। উল্টে রবিবাসরীয় এক জনসভায় তাঁদের বহাল তবিয়তে প্রথম সারিতে দেখা যাওয়ায় অস্বস্তি বাড়ছে শাসকদলের অন্দরে।
জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল সভানেত্রী মহুয়া গোপ গত ১৫ তারিখেই অরূপ দে ও তাপস করকে শোকজ করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী ৩ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রবিবার বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কদমতলায় জেলা তৃণমূলের এসসি-এসটি-ওবিসি সেলের মিছিলে তাঁদের দুজনকে একদম সামনের সারিতে দেখা যায়।
ধূপগুড়ি পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান অরূপ দে দর্পের সঙ্গে জানান, “আমি শোকজের কোনও চিঠিই পাইনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় চিঠি ভাইরাল হতে দেখেছি। দলীয় চিঠি কীভাবে বাইরে গেল? তবে তো যারা ভাইরাল করেছে তারাই দলবিরোধী কাজ করেছে।”
শোকজ পাওয়া দুই নেতাকে নিয়ে এদিনের সভা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এসসি-এসটি-ওবিসি সেলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাস। তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “কর্মী বৈঠকে অনেক আলোচনা হয়, দল লিখিতভাবে কিছু জানতে চাইলে তাঁরা নিশ্চয়ই জবাব দেবেন।” তবে খোদ বিধায়ককে কেন এই সভায় দেখা গেল না, তার জবাবে তিনি জানান যে অনেকেই অন্যান্য কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন।
এদিকে বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়কে অশালীন আক্রমণের জেরে এই শোকজ হলেও, তিনি এদিন সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন, “আগে ওঁরা শোকজের জবাব দিক, তারপর বাকি কথা বলব।” জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপের ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।
