Sheikh Hasina | হাসিনার রায়ের দিনে ঢাকায় অগ্নিপরীক্ষার প্রহর! সেনা মোতায়েন নিয়ে মুখ খুলল সরকার

Sheikh Hasina | হাসিনার রায়ের দিনে ঢাকায় অগ্নিপরীক্ষার প্রহর! সেনা মোতায়েন নিয়ে মুখ খুলল সরকার

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে ‘মানবতাবিরোধী’ মামলার রায় ঘোষণার দিনটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের দিনেই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ‘লকডাউন’ বা হরতালের ডাক দেওয়ায় সম্ভাব্য অস্থিরতা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মহম্মদ জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী জানিয়েছেন যে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনা বাহিনী পূর্বের মতোই মাঠে থাকবে।

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এই মানবতাবিরোধী মামলার চূড়ান্ত রায় ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চলছে টানটান উত্তেজনা। এই রায় যেমন বিচার প্রক্রিয়ার একটি মাইলফলক, তেমনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথের জন্যেও তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে বর্তমানে আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তবুও দলটির নেতা জাহাঙ্গির কবির নানক এই মামলার রায়ের দিনেই (বৃহস্পতিবার) ঢাকায় লকডাউনের ডাক দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আহ্বান কেবল প্রতিবাদ নয়, বরং বর্তমান প্রশাসনের প্রতি একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া।

এই অস্থিরতার আভাস পেয়েই আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত শনিবার ঢাকা শহরের ১৪২টি স্পর্শকাতর এলাকায় ৭ হাজার পুলিশ কর্মীকে নিয়ে এক ব্যাপক মহড়া সম্পন্ন হয়। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সরকারি বাসভবনের সামনেও নিরাপত্তা মহড়া চলে বলে খবর।

রবিবার এ বিষয়ে মুখ খুলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মহম্মদ জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী জানান, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সঙ্গে বিশদ বৈঠক হয়েছে এবং ঢাকা লকডাউন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা বাহিনী আগের মতোই মাঠে থাকবে।” একইসঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, আওয়ামী লীগের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও বলবৎ রয়েছে, যা কার্যত লকডাউনের ডাকটিকে অবৈধ আখ্যায়িত করে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আদালতের সিদ্ধান্তের দ্বন্দ্বে ঢাকা এখন নিরাপত্তা বলয়ে আবদ্ধ। অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই বৃহস্পতিবারটি কেবল একটি রায়ের দিন নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার এবং তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্নিপরীক্ষা। প্রশ্ন উঠছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আওয়ামী লীগ কতটা সফল হয় তাদের লকডাউন কার্যকর করতে। এর পাশাপাশি সরকারও বা কী পদক্ষেপ নেয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, সেটাই এখন দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *