উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সোমবার বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ও তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ফাঁসির নির্দেশ দিয়েছে সেদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। আর মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড। টানা চার মাস সাত দিন ধরে এই মামলার শুনানি চলে।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনি প্রক্রিয়ায় রায়দানই শেষ ধাপ নয়। পরবর্তী পর্যায়ে রয়েছে আরও কয়েকটি পদক্ষেপ।
বাংলাদেশের (Bangladesh) আইন অনুযায়ী পরবর্তী ধাপ হল আপিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন ১৯৭৩ অনুসারে, ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে যে কোনও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবেন। আবার একই ভাবে রাষ্ট্র বা অভিযোগকারী পক্ষও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। তবে এই আপিলের ক্ষেত্রে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে প্রথমে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তার পরে তার আইনজীবী ওই আপিল করতে পারবেন।
সোমবার সেদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল পাঁচটি অভিযোগের ক্ষেত্রে মোট তিনটি ধারায় হাসিনাকে দোষী ঘোষণা করে ফাঁসির রায় দিয়েছে। রায় ঘোষণার সময় জানানো হয়েছে, বিদেশে থাকার কারণে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান এই আপিলের সুযোগ পাবে না। কিন্তু জেলবন্দি মামুন আপিল করতে পারবে।
বাংলাদেশের আইন অনুসারে আত্মসমর্পণ বা গ্রেপ্ততারের পর আসামিপক্ষ ট্রাইবুনালের বিচারপদ্ধতির ত্রুটি, অসংগতি সহ বিভিন্ন ভুল তুলে ধরে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ পান। সেই সুযোগ পাবে তারা।
বাংলাদেশের আইনে রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। ৬০ দিনের মধ্যে সব কিছু নিষ্পত্তি করতে হবে। আপিলের পরে রয়েছে রিভিউ প্রক্রিয়া যা বিচার প্রক্রিয়ার শেষ আইনি ধাপ। এখানেও আসামি আপিল রায়ের আইনি ত্রুটি তুলে ধরতে পারেন।
বাংলাদেশের বিচারের ইতিহাস বলছে, আপিল বিভাগে আর্জি খারিজের পরেও রিভিউ প্রক্রিয়ায় অপরাধীর সাজা হ্রাস এমনকি সাজা মকুব পর্যন্ত হয়েছে। শেষ ধাপে রয়েছে প্রাণভিক্ষার আবেদন। ভারতের মতো বাংলাদেশেও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারে। সে দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অপরাধীর সাজা কমানো, স্থগিত বা পুরোপুরি মকুবও করতে পারেন।
